অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে জোর করে বিয়ে!

jessore
Share Button

যশোরে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিয়ের পর পুত্রবধূকে বাড়ি আনা না হলেও যৌতুকের মামলায় আসামি করে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে।

রোববার যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন যশোরের শার্শা উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের ইমান আলী বিশ্বাসের ছেলে মো.মনিরুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন,ছেলে আবিদ হাসান মাসুম ২০১৩ সালে যশোরের বিসিএমসি কলেজে পড়াশুনা করতো।

ওই সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে  মণিরামপুর উপজেলার হাসাডাঙ্গা গ্রামের আবদুল হামিদ মোড়লের মেয়ে মাসুমা শারমিনের সঙ্গে পরিচয় হয়।

ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি মেয়েটি আমার ছেলেকে কৌশলে কেশবপুরে ডেকে নিয়ে যায়। কেশবপুরে মেয়েটি তার ভগ্নিপতি মিজানুর রহমানের ভাড়া বাসায় আমার ছেলেকে  নিয়ে যায়।

সেখানে যাওয়ার পর মাসুমা শারমিনের বাবা আবদুল হামিদ মোড়ল, ভাই শাহিন কবির, কেশবপুর থানার আলতাপোল গ্রামের মৃত ফরিদ সরদারের ছেলে শাহিদুর রহমান, শ্রীফলা গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে গোলাম সরোয়ার, ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান মিলে আমার ছেলেকে মজিদপুর ইউনিয়নের  নিকাহ রেজিস্ট্রার রবিউল ইসলামের অফিসে নিয়ে যান।

সেখানে আমাদের কোন আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতি ছাড়াই ছেলে আবিদ হাসান মাসুমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বিয়েতে রাজি করায়। এক পর্যায়ে দশ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

কাবিননামায় ছেলের জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৩। প্রকৃতপক্ষে ছেলের জন্মতারিখ ৬ অক্টোবর ১৯৯৬। তখন ছেলের বয়স ছিল ১৬ বছর ২ মাস।

নাবালক ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিয়ে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ওই কলেজ ছাত্রের বাবা।

২০১৬ সালে শেষের দিকে ছেলে আবিদ হাসান মাসুম বিদেশ চলে যায়। এরপর মাসুমা শারমিন দাবি করে তার ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। পুত্রবধূ হিসেবে তাকে কখনো তাদের বাড়িতে আনা হয়নি।

এমনকি তাকে চিনেনও না বলে দাবি করেন মনিরুজ্জামান। অথচ  নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে ৩০ লাখ টাকা যৌতুকের মামলা দায়ের করে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন,এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী কেশবপুর আদালতে নাবালক ছেলেকে আটকে জোরপূর্বক বিয়েতে বাধ্য করার বিষয়ে মামলা করে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

আদালতে মামলা করার পর অভিযোগ তদন্ত করার জন্য কেশবপুর থানাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে সঠিক প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মাসুমা শারমিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts