কাউন্সিলরের স্ত্রী টুম্পা যেভাবে পরকীয়ার বলি!

কাউন্সিলরের স্ত্রী টুম্পা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোলায়মান মিয়ার স্ত্রী ইশরাত জাহান টুম্পা আত্মহত্যা করেনি, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এমন দাবি তার স্বজনদের। স্বজনরা বলেছেন, স্বামীর পরকীয়া আর মাদকের নেশার বলি হতে হয়েছে টুম্পাকে। আর পলাতক রয়েছেন নিহত টুম্পার স্বামী কাউন্সিলর সোলায়মান মিয়া।

টুম্পা হত্যার বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার বিকালে নগরের কোনাবাড়িতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। পরে কোনাবাড়ি স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ শেষে তার বাবার বাড়ির পারিবারিক গোরস্তানে মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টুম্পার ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, টুম্পার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাদের প্রাথমিক ধারণা টুম্পার মৃত্যু হত্যাজনিত।-মানবজমিন।

নিহত টুম্পার বাবা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের অভিযোগে জানান, ১২ বছর আগে কাশিমপুরের ভবানীপুর এলাকার হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে সোলায়মান মিয়ার সঙ্গে তার মেয়ে টুম্পার বিয়ে হয়। বিয়ের ৫ বছর পর থেকে বিভিন্ন সময় তার মেয়েকে নির্যাতন করতো সোলায়মান। সোলায়মান মিয়ার মাদকের নেশা ও নারী সংক্রান্ত ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মধ্যে ঝগড়াঝাটি হতো।

তিনি বলেন, রোববার বিকালে কাউন্সিলর সোলায়মান, তার স্ত্রী টুম্পা, টুম্পার ভাই সাঈদ ও তার স্ত্রীসহ বসুন্ধরা এলাকায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে অন্য জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার সময় গাড়িতে স্বামী সোলায়মান মিয়ার মোবাইলে অন্য একটি মেয়ের ছবি দেখতে পেয়ে স্বামীর সঙ্গে টুম্পার ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রাতে সোলায়মান ও টুম্পাকে তাদের বাসায় নামিয়ে ভাই সাইদ তার স্ত্রীকে নিয়ে চলে যায়। এসময় তাদের সন্তান নাফি (৮) উত্তরাতে তার নানা নজরুল ইসলামের বাসায় ছিল। পরে রাতে কোনো এক সময় টুম্পাকে নির্যাতন করে হত্যার পর সোলায়মান বাসার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে কাজের বুয়া বাসায় দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে টুম্পার মাকে ফোন করে। খবর পেয়ে তারা ওই বাসায় এসে জানালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে খাটের উপর টুম্পার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক টুম্পাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার সন্ধ্যায় উত্তরা থানা পুলিশ টুম্পার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। মঙ্গলবার সকালে মরদেহের ময়না তদন্ত করার পর মরদেহটি দাফন করার জন্য আনা হয় কোনাবাড়ি এলাকার বাবার বাসায়। সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ মরদেহ দেখতে ভিড় জমায়। আর লাশ সামনে রেখে স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃস্টি হয়।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts