কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চলে জমির আধাপাকা ধান পানির নিচে

Kishoreganj
Share Button

পাহাড়ি ঢলের কারণে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইন ও ইটনার কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার একর জমির ফসল এখন পানির নিচে। কৃষক এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যে ফসলকে সামনে রেখে সারা বছর সংসার চালানোর আশায় বুক বাঁধেন তারা, সেটি হারিয়ে কৃষক পরিবারগুলোতে চলছে আহাজারি।
তিন দিনের ঢলে মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড়, কাঞ্চনপুর, চরবৌলাই, ঘাগড়া, চিরুল হাওর এবং ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি, মৃগা, ধনপুর ও চারিগ্রামের কয়েক হাজার একর জমির আধাপাকা বোরো ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলের কৃষকেরা পাহাড়ি ঢলে ফসলহানির শিকার হন। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য নদী খননের কথা বলছেন ভুক্তভোগী এবং জনপ্রতিনিধিরা।
মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত চিরুলবিল এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ আধাপাকা বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে আছে। নৌকা নিয়ে কিছু ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন কৃষকরা। সিরাজ মিয়া নামে ঘাগড়া গ্রামের এক কৃষক জানান, তিনি এবার ৩ একর জমি পত্তন নিয়ে মহাজনী চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বোরো ফসল করেছিলেন। এ জমিতে ৩শ’ মণেরও বেশি ফলন হওয়ার কথা ছিল। তার পুরো জমিই এখন পানির নিচে।
দু’দিন আগেও যে ফসলের মাঠে হাওয়ায় দুলছিল সোনা ধান- আজ তার বুকে থৈ থৈ করছে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঘোলা পানি। নৌকার মাঝি সুরুজ মিয়া জানান, তিনি ও তার মেয়ের জামাই ৪ একর জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। তার সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল জানান, নদী নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় পাহাড়ি ঢলে প্রতি বছরই দরিদ্র কৃষক পরিবারগুলো চরম ক্ষতির মুখে পড়েন। একে তো কৃষক ফসলের উপযুক্ত উৎপাদন মূল্য পান না- তার ওপর পাহাড়ি ঢলে ফসলহানি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তিনি নদীগুলো খনন করে এলাকার কৃষকদের রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। এ ব্যাপারে মিঠামইন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে পানি সরে না যাওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় সম্ভব নয়।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts