তনুর ভিসেরা নমুনা পরীক্ষা করছে সিআইডি

sohagi jahan tonu

নাট্যকর্মী ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ ও হত্যার আগে বিষ বা নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা তা জানতে সিআইডির রাসায়নিক পরীক্ষকরা ভিসেরার নমুনা পরীক্ষা করছেন।

গত সপ্তাহে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে প্রথম দফায় ময়নাতদন্তের সময় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক তনুর কিডনি, লিভার ও পাকস্থলির ভিসেরার নমুনা চট্টগ্রামে সিআইডির রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠান।

ভিসেরার নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজধানীতে সিআইডির কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক দিলীপ কুমার সাহার নেতৃত্বে দুই সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠিত হয়। বোর্ডের অপর দুই সদস্য হলেন, উপপ্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক মো. কায়ছার রহমান ও সহকারি রাসায়নিক পরীক্ষক মো.নজরুল ইসলাম।

দিলীপ কুমার সাহার নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ রাসায়নিক পরীক্ষকরা চট্টগ্রামে গিয়ে ভিসেরা পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ভিসেরার চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হতে পারে।

বুধবার দুপুরে দিলীপ কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খুব শিগগিরই স্পর্শকাতর এ মামলার ভিসেরা প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তবে তিনি নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলতে রাজি হননি। এদিকে আজ (বুধবার) দ্বিতীয় দফায় পুনঃময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন ও ময়নাতদন্ত করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রাসায়নিক পরীক্ষক বলেন, নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার তরুণী তনুর ক্ষেত্রে ভিসেরার প্রতিবেদন তেমন গুরত্ব বহনা না করলেও হত্যাকাণ্ডের আগে তাকে বিষ বা নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা তা ভিসেরা প্রতিবেদনে পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন।

গত রোববার সন্ধ্যায় টিউশনি করে বাসায় ফেরার পথে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার শিকার হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের (ভিসিটি) নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। রাত ১১টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংক সংলগ্ন কালভার্টের পাশের একটি ঝোপে লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।

সেখানে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায় তনুর মরদেহ। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মচারী ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে সোমবার বিকেলে কোতয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কিন্তু হত্যাকাণ্ডের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও এর রহস্যের কোনো কূলকিনারা খুঁজে পায়নি পুলিশ।

এদিকে ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে শহর, জেলা উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তনুর সহপাঠী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment