তিন বছর শিকলে বাধা ফাতেমা

Fatema
Share Button

মেয়েটির সুন্দর চাহনি আর হাসিখুশি চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তার কোনো সমস্যা আছে। আশপাশের অন্য তরুণীদের মতোই।

তবে ভালো করে তাকালেই পার্থক্যটা চোখে পড়বে। গায়ে সুন্দর জামা-কাপড় থাকলেও হাত দুটি খালি। আর গানের মতো ‘এক পায়ে নূপুর আমার অন্য পা খালি’ নেই। বরং তার এক পায়ে শেকল আর অন্য পা খালি!

মেয়েটির নাম ফাতেমা। বয়স ২২। বাম পায়ে শিকলের সঙ্গে তালা। আর শিকলের আরেক দিক বসতঘরের একটি সিমেন্টের পাল্লায় তালাবদ্ধ। এরপরও পরিবারের সবাই সব সময় সতর্ক। কখন কী হয়ে যায়! এভাবেই দীর্ঘ তিন বছর ধরে শিকলবন্দি হয়ে দিন কাটছে ফাতেমার।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চরকাটিহারি গ্রামের মহিবুর রহমান সরদারের ৫ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ফাতেমা সবার ছোট। বড় দুই ভাই বাবুল সরদার (৪০) ও রফিক সরদার (৩৫)।

বোনদের মধ্যে সালমা (২৮) ও নাজমার (২৩) পরই ফাতেমার অবস্থান। বাবার অভাব-অনটনের সংসার হলেও সবার ছোট হওয়ায় সবার আদর-স্নেহে শৈশব কাটে ফাতেমার।

যথারীতি এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যায়। সবার আদরের মেয়ে এক সময় যেন পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই নূপুরের বদলে তার কোমল পায়ে পরানো হয় লোহার শিকল! মানসিক ভারসাম্য হয়ে পড়ার পর তিন বছর ধরেই এমন দুঃসহ জীবন কাটছে মেয়েটির।

কয়েকদিন আগে পায়ে শিকল পরা অবস্থায় স্থানীয় এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ফাতেমার একটি ছবি পোস্ট করে। এর পরই সংবাদ কর্মীদের নজরে আসে বিষয়টি।

ফাতেমার বাবা মহিবুর রহমান সর্দার জানান, ২০১১ সালে হোসেনপুর হুগলাকান্দি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল ফাতেমার। কিন্তু নির্বাচনী পরীক্ষায় সে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর পরই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে ফাতেমা। প্রথম দিকে তার আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা দেখা দিলেও একপর্যায়ে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।

জিনারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম জানান, দরিদ্র পরিবারের সন্তান ফাতেমা। পরিবারের লোকজন তার চিকিৎসায় সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে। কিন্তু মেয়েটি এক সময় এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, সবার জন্য সে বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। পরিবারের লোকজনের মতে, বাধ্য হয়েই তাকে লোহার শিকলে আটকে রাখা হয়। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেয়েটির বিষয়ে তার কাছে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে সরকারি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মেয়েটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts