নওগাঁয় ভয় দেখিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন

Naogown
Share Button

দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা। নওগাঁয় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতার হার তুলনামূলক বেশি। প্রাকৃতিকভাবে বাচ্চা প্রসব (নরমাল) হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ক্লিনিক মালিক, ডাক্তার, নার্স এবং দালালদের যোগসাজশে সিজারিয়ান অপারেশন করা হচ্ছে। সিজারিয়ান অপারেশনের বেশিরভাগ টাকা যায় ডাক্তারের পকেটে। নার্স এবং দালালদের সামান্য কিছু কমিশন দিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়। আর সিজারিয়ান অপারেশনে ফলে লাভ হচ্ছে ক্লিনিক মালিকের। সচেতন মহল মনে করছেন সিজারিয়ান একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন পরিসংখ্যান অফিস ও সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জেলায় আধুনিক সদর হাসপাতাল ১টি, ১০টি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০টি এবং ৭২টি বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪০টির মতো বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতো ২০১৬ সালে সিজারিয়ান অপারেশন ৬ হাজার ১১৪ জন এবং নরমাল ডেলিভারি ৯৩৫ জন, ২০১৫ সালে সিজারিয়ান অপারেশন ৩ হাজার ৯৭ জন এবং নরমাল ডেলিভারি ২ হাজার ৯৭৬ জন, ২০১৪ সালে সিজারিয়ান অপারেশন ২ হাজার ৭৯২ জন এবং নরমাল ডেলিভারি ২ হাজার ২৬৬ জন।

২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি যেসব বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে এগুলোর মধ্যে বদলগাছী জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন ১ হাজার ২৪৫ জন ও নরমাল ডেলিভারি ২৪১ জন, ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল সিজারিয়ান অপারেশন ৯৮৭ ও নরমাল ডেলিভারি ১১৮ জন, হলি ফ্যামিলি সিজারিয়ান অপারেশন ৯৫১ ও নরমাল ডেলিভারি ৪৫ জন, প্রাইম ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতাল সিজারিয়ান অপারেশন ৬৯০ জন ও নরমাল ডেলিভারি ৭০ জন, উত্তরা ক্লিনিক সিজারিয়ান অপারেশন ৩২৫ জন ও নরমাল ডেলিভারি ৭৭ জন, সেন্ট্রাল ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতাল সিজারিয়ান অপারেশন ২৮১ জন ও নরমাল ডেলিভারি ৫৩ জন, সান্তাহার ক্লিনিক সিজারিয়ান অপারেশন ২৪৯ জন ও নরমাল ডেলিভারি ৩১ জন, এ্যাপোলো ক্লিনিক সিজারিয়ান অপারেশন ২৪৭ ও নরমাল ডেলিভারি ৩৯ জন, বলাকা ক্লিনিক সিজারিয়ান অপারেশন ২০০ জন ও নরমাল ডেলিভারি ২০ জন, প্রত্যাশা ক্লিনিক সিজারিয়ান অপারেশন ১৯০ জন ও নরমাল ডেলিভারি ৩১ জন। অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চাকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করে আনার প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে সিজারিয়ান অপারেশন। যদিও এটা স্বাভাবিক কোনো ব্যবস্থা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ডেলিভারি করানোর হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ-কাল ভয়ংকরভাবে এই অপারেশনের ব্যবহার বেড়েই চলছে। মায়েরা আর কোনোভাবে প্রসব বেদনার অভিজ্ঞতা নিতে আগ্রহী নন। বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক থেকে সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করে এলাকায় সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়। এছাড়া মাইকিং এবং মার্কেটিং করা হয়। গ্রামের লোকজনদের বুজিয়ে সুজিয়ে তাদের ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়। বিশেষ করে গ্রামের লোকজন দালালদের দ্বারা বেশি প্রতারিত হয়ে থাকেন। দালালদের বিভিন্ন ক্লিনিকের সঙ্গে চুক্তি থাকে। ফলে গ্রামের মানুষ কিছু না বুঝে তাদের কথায় ক্লিনিকে আসেন। বিভিন্ন অজুহাতের কথা বলে গর্ভবর্তী মহিলাকে বা তার আত্মীয়-স্বজনকে সাত পাঁচ বুঝিয়ে স্বল্প খরচে সিজারিয়ান করে দেয়া হবে বলে জানায়।

এছাড়া ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে গেলে গর্ভবতীর অবস্থা খারাপ এবং বাচ্চার সমস্যা হবে বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। নওগাঁ সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি ডা. সুলতানা জাহান বলেন, অনেক মায়ে প্রসব ব্যথা ভয় পান। আগে থেকে সিজার করার কথা চিন্তা করে থাকেন। ফলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যেতে চান না। এছাড়া পানি কমে যায় এবং মাঝে মধ্যে পেটের ভেতর বাচ্চা উল্টে থাকতে পারে। ফলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া প্রসব করা মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকি হতে পারে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা ড. কুস্তরী আমিনা কুইন বলেন, সিজারিয়ান মূলত দুইটি কারণে হয়। একটি প্রয়োজনে এবং অপরটি ইচ্ছাকৃতভাবে। এটির সঙ্গে একটি ব্যবসা জড়িত। বাইরের ক্লিনিকগুলোতে বেশি সিজারিয়ান হয়ে থাকে। আল্ট্রাসনোগ্রাম করে অনেক সময় পানি কমে গেছে বলে গর্ভবতীকে ভয় দেখানো হয়। দ্রুত সিজার করতে হবে। না হলে বাচ্চার সমস্যা হতে পারে। নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা খানম বলেন, সিজারিয়ান বেশি হচ্ছে। এ বিষয়টি আমার জানা আছে। এ বিষয়টি দেখব বলে জানান।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts