পরকীয়ায় রাজি না হওয়ায়…

পরকীয়ায় রাজি না হওয়ায়
Share Button

পরকীয়ায় রাজি না হওয়ায় নওগাঁর আত্রাইয়ে একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে পেট্রলের আগুনে দগ্ধ শাহানাজ খাতুনকে (২২) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ বখাটে সাদেকুল আলম খান সাজ্জাদ (২৫) কে গ্রেপ্তার করেছে। আত্রাই থানা তদন্ত কর্মকর্তা সামশুল আলম জানান, আত্রাই উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের মো. সৌখিন মণ্ডলের মেয়ে শাহানাজ খাতুন (২২) এর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত. আব্দুস ছালামের ছেলে সাদেকুল আলম খান সাজ্জাদের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে হয়।–মানবজমিন।

পারিবারিক কলহের জের ধরে এক বছর বিয়ের এক বছর পর তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে। পরে সাজ্জাদ অন্য মেয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহ করে ঘর সংসার করতে থাকে। এবং শাহানাজকে বিভিন্ন ভাবে বিয়ের জন্য প্রলোভন দিতে থাকে। কিন্তু শাহানাজ তার কথায় কোনো সাড়া না দিয়ে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করে পুনরায় সুন্দর জীবন গড়ার লক্ষ্যে আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা করতে থাকে।

এরই জের ধরে শাহানাজ কলেজ শেষে প্রাইভেটের উদ্দেশে গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে রওনা হলে উপজেলার বাইপাস রোডের তিন মাথা নামক স্থানে মহিলা মাদরাসার সামনে সাজ্জাদ শাহানাজের গতিরোধ করে তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান আগুনে ঝলসে যায়। তাৎক্ষণিক মেয়েটি বাঁচার তাগিদে আত্রাই নদীতে লাফিয়ে পড়লে তার সঙ্গে থাকা দুই বান্ধবী উম্মে হাবিবা ও তাছলিমা আক্তার স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এদিকে বখাটে সাজ্জাদ জনতার হাত থেকে বাঁচতে আত্রাই থানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। আত্রাই থানার ওসি (তদন্ত) সামশুল আলম আরো জানান, মেয়েটির বাবা মো. সৌখিন মণ্ডল বাদী হয়ে আত্রাই থানায় একটি মামলা করেছেন। এবং আত্মসমর্পণকারী মো. সাদেকুল আলম সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে নওগাঁ আদালতে প্রেরণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts