বাঁধন ছিঁড়ে ফের জলাশয়ে হাতি ‘বঙ্গ বাহাদুর’

ভারতীয় হাতি দর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি!

জামালপুরের সরিষাবাড়ী থেকে উদ্ধার হওয়া ‘বঙ্গ বাহাদুর’ নামে বুনো হাতিটি শিকল ছিঁড়ে ছাড়া পেয়ে ফের এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে।

শনিবার সকালে উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামে ওই হাতিটির সামনের পায়ের শিকল ছিঁড়ে যায়। এতে সে ছাড়া পেয়ে ওই এলাকার আবদুল সালামের বাড়ির আশপাশের এলাকায় তাণ্ডব চালায়। বর্তমানে হাতিটি ওই এলাকার জলাশয়ে অবস্থান করছে।

দুপুর ২টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাতিটিকে খাবার দেখিয়ে ডাঙায় ওঠানোর চেষ্টা চলছিল বলে জানান এলাকাবাসী আবদুল সালাম।

এদিকে সকালে হাতিটি ফের ছুটে যাওয়ায় এলাকায় নতুন করে আতংক সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ বন বিভাগের উপবন সংরক্ষক কর্মকর্তা ড. তপন কুমার দে জানান, সকালে আতংকগ্রস্ত হয়ে হাতিটি শিকল ছিড়ে পালিয়ে জলাশয়ে আশ্রয় নেয়। বুনো হাতিটিকে বশে আনতে সিলেট থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরও হাতি আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওই হাতিগুলো দিয়ে বশে আনতে পারলে তাকে সহজেই স্থানান্তর করা যাবে।

তিনি বলেন, বানের জলে ভেসে আসা বুনো হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের কয়েকটি জেলা চষে বেড়িয়েছে। বেশ শক্তি থাকলেও খুব একটা ক্ষতি করেনি। শুক্রবার বাংলাদেশে এসে এভাবে ঘুরে বেড়ানো অতিথি হাতিটির নাম আমরা রেখেছি বঙ্গ বাহাদুর। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এই নাম দেয়া হয়েছে।

চেতনানাশক দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে এটিকে ধরা হয়। রাতেই তার চেতনা ফিরে এসেছে। তবে শারীরিক দুর্বলতার কারণে হাতিটি দাঁড়াতে পারছিল না। খাবার দেয়া ও পরিচর্যা করা হলে শুক্রবার সকালে হাতিটি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ায়। এ সময় পায়ে বাঁধা দড়ি ছিঁড়ে ফেললে তাকে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়।

হাতির সামনে-পেছন মিলে তিনটি পা বড় গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। মাহুত আসার পর আরও দুটো হাতির সঙ্গে বুনো হাতিটিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বন অধিদফতরের উদ্ধার দলের ভেটেরিনারি সার্জন সৈয়দ হোসেন।

তিনি বলেন, হাতিটিকে মাহুত দিয়ে বশে আনার পর সেখান থেকে স্থানান্তর করা হবে।

বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ির কয়রা গ্রামে ট্রাংকুলাইজার প্রয়োগ করে অচেতন করা হয় হাতিটিকে। পরে পাঁচ টনের বেশি ওজনের পুরুষ হাতিটিকে কয়েকশ’ জনতা জলাশয় থেকে লোকালয়ে টেনে তোলেন।

ভেটেরিনারি সার্জন সৈয়দ হোসেন জানান, হাতিটিকে বশে আনতে ৫-৭ দিন সময় লাগতে পারে। বশ মানানো গেলে মাহুতের সাহায্যে হাতিটিকে রাস্তার কাছাকাছি নেয়া হবে। তারপর পরিবহনে করে ঢাকার সাফারি পার্ক কিংবা শেরপুরের গজনিতে ছেড়ে দেয়া হবে।

গত ২৬ জুন বন্যার পানিতে ভেসে ভারতের আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে আসে বুনো হাতিটি। ৯ জুলাই পর্যন্ত সেটি কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ছিল। ১০ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ছিল গাইবান্ধায়। ১৪ থেকে ১৬ জুলাই জামালপুরে, ১৭ থেকে ১৮ জুলাই বগুড়ায়, ১৯ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত সিরাজগঞ্জে ছিল।

৩১ জুলাই থেকে আবার জামালপুরে চলে আসে হাতিটি। এরই মধ্যে গত ৩ আগস্ট ভারতীয় একটি দল হাতিটি উদ্ধার করতে আসলেও ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। প্রায় দেড় মাস দেশের পাঁচ জেলায় ঘুরে বেড়ানো ভারতীয় বুনো হাতিটির নাম দেয়া হয়েছে ‘বঙ্গবাহাদুর’।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts