বাঙালিরে টাইট না দিলে কাজ হয় না : ডিসি

market
Share Button

রমজানের ঈদে কাপড়ের দাম স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। কিন্তু এ মতবিনিময় সভায় প্রায় কাপড় মার্কেটের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আসলেও সানমার ও মিমিসুপারসহ কয়েকটি অভিজাত মার্কেটের প্রতিনিধিরা আসেনি। আর এতেই ক্ষেপেছেন মেজবাহ উদ্দিন। তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘বাঙালি এমন একটি জাতি যা ওয়াজ-তোয়াজ বুঝে না। তাদেরকে টাইট দিতে হয় এবং টাইটে রাখতে হয়।’

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আজকের এ মতবিনিময় সভা। এ সভায়, এ যে টেরিবাজার, নিউমার্কেট,সিংগাপুর ও হকার্স মার্কেটসহ অন্য কাপড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আপনারা এসেছেন। কিন্তু সানমার ও মিমিসুপারসহ আরও অনেক অভিজাত শপিং মল আসেনি। আমরা অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার আগে একটি মেসেজ দিতে আপনাদেরকে ডেকেছিলাম। আসলে বাঙালিরা ওয়াজ-তোয়াজ বুঝে না। তাদেরকে টাইট দিতে হয়, টাইটে রাখতে হয়।’

‘যারা আজকের এ সভায় আসেনি তাদের বিরুদ্ধে আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে। তাদের কপালে দু:খ আছে। দেখি কতধানে কত চাল, বুঝা যাবে।’ বলেন-জেলা প্রশাসক

ছোলা-চিনির মতো কাপড় কেনার পাইকারি রশিদ দোকানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ বাজার মনিটরিং ও কঠোর অবস্থান না নিলে ছোলার দাম ১২০-১৪০ টাকা হতো। মিল থেকে ৪৬ টাকায় চিনি কিনে ৫৮ টাকা বিক্রি হচ্ছিল খাতুনগঞ্জে।’

‘এখন তারা ডিসি অফিস চেনে, ৫০ টাকায় চিনি বিক্রি করছে। কার কাছে কত চিনি বিক্রি করছে হিসাব দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেক কাপড় ব্যবসায়ীদের দোকানে পাইকারি রশিদ টাঙিয়ে রাখতে হবে। অধিক মুনাফা করলে বাজার মনিটরিং টিম অভিযান চালাবে। মীর গ্রুপের মতো কাউকে হাতকড়া পরাতে চাই না।’ বলেন-মেজবাহ উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘কাপড় বা জুতোয় অধিক মুনাফা করলে সানমার হোক বা তানমার হোক মিমি সুপার মল হোক বা অন্য মল হোক অভিযান থেকে কেউ বাদ পড়বে না। এছাড়াও কাপড় ব্যবসায়ীদের ড্রিলিং লাইসেন্স থাকতে হবে। কারণ কাপড় ব্যবসায়ী ও সুতার ব্যবসায়ী এ দুই ধরনের ব্যবসায়ীর কাছেই খুব কমই এই ড্রিলিং লাইসেন্স আছে। তাদেরকে লাইসেন্স এর আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নির্দেশনা আছে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শুধুমাত্র মনে হয় ইন্ডিয়ার ব্যবসায়ীদের ধৈর্য্য আছে। তারা অনেক ধৈর্য্য ধরে ক্রেতাদের কাপড় দেখান। আমাদেরও একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। গরম হয়ে ক্রেতাদের খারাপ কমেন্ট করা যাবে না। পারলে ব্যবসা কম করেন, কম করলে কম ঝামেলা। সুনাম ছড়ান কোনো দুর্নাম ছড়াইয়েন না।’

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. অনুপম সাহা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুর রশীদ, এডিশনাল এসপি রেজাউল মাসুদ, চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বাংলাদেশ ব্যবসায় মালিক সমিতির প্রতিনিধি সালেহ আহমেদ, ক্যাবের কেন্দ্রীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন, বিপণি বিতান ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ছগীর, টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি খাইরুল ইসলাম ককসি, টেরিবাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইসমাইল, দোকান মালিক সমিতির সালেহ আহমদ সোলেমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts