ভারতীয় হাতি দর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি!

ভারতীয় হাতি দর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি!
Share Button

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দলছুট ভারতীয় বন্য হাতি উদ্ধার করার ঘটনায় হাতি দর্শনে জনতার ঢল নেমেছে। গত দুই দিন বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ-শিশুসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা হাতি দর্শনে প্রতিযোগীতায় নেমেছে। এ ঘটনায় বন্য হাতির সেবা-সুস্থ্যতা এবং যতেœর মারাত্মক ব্যঘাত ঘটছে। এ কারনে হাতি এলাকায় জন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে প্রশাসন। বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় প্রশাসন হাতির অবস্থান এলাকা পরিদর্শন করেন। দর্শনার্থীদের চাপে এলাকার রাস্তা-ঘাটে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানাগেছে। স্থানীয় প্রশাসন সাংবাদিকদের নিয়ে মত বিনিময় করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জেলা পরিষদ ডাক বাংলোতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সাহাবুদ্দিন খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী, সহকারী কমিশনার (ভ’মি) মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা, সরিষাবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি সোলায়মান বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, অর্থ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক জানান, হাতি উদ্ধারের সার্বিক প্রস্তুতির কাজ নির্বিঘেœ সম্পন্ন করার জন্য কামরাবাদের কয়ড়া-হাটবাড়ি এলাকায় জন চলাচল নিয়ন্ত্রনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উদ্ধারকৃত বন্য হাতিটি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এবং সাফারী পার্কে স্থানান্তরের সুবিধার্থে জন সাধারনের অতিরিক্ত ভীড এড়ানোর লক্ষ্যে হাতিটির অবস্থানে পৌছানোর রাস্তায় ভলান্টিয়ার টিম গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই টিমে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হবে। জন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মাইকিং, ব্যানার নিয়ে ব্যাপক প্রচারনা চালানো জন্য সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়। এলাকাবাসীর নিকট সব ধরনের সহযোগিতা চেয়েছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান।

হাতিটি স্থানাস্তরের বিষয়ে উদ্ধার অভিযানে থাকা বন অধিদপ্তরের সাবেক উপপ্রধান বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে জানান, হাতিটি কোথায় স্থানান্তর করা তা প্রধান বন সংরক্ষকের সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, হাতিটি বশে আনতে সিলেট থেকে ৩টি প্রশিক্ষন প্রাপ্ত হাতি আনা হবে। ওই হাতি দ্বারা বশে আনতে পারলে হাতিটিকে স্থানান্তরের কাজ করতে সুবিধে হবে।

উদ্ধারকারী দলের চিকিৎসক ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান হাতির খাবারের বিষয়ে জানান, হাতিটিকে ১ হাজার লিটার করে ৭টি স্যালাইন দেয়া হয়েছে। সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ভিটামিন, ক্যালশিয়ামসহ পর্যাপ্ত খাবার হিসেবে কলা, আখ, বাশের ডাটা, দেয়া হচ্ছে। হাতিটি এখন বেশি বেশী করে খাবার খাচ্ছে। হাতিটির পিছনের দু’পায়ে শিকল ও রশি দিয়ে গাছের সাথে বেধে রাখা হয়েছে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts