মেলার নামে নগ্ন নাচ

মেলার নামে নগ্ন নাচ

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু শহর এখন অশ্লীল নৃত্য আর রমরমা জুয়ার জোয়ারে ভাসছে। উঠতি বয়সের যুবকরা ভিড় জমাচ্ছেন যাত্রা প্যান্ডেল ও জুয়ার আসরে। জুয়ার নাম পাল্টিয়ে রাখা হয়েছে বউ খেলা।

শুধু তাই নয়, পাশাপাশি প্রকাশ্যে চলছে মাদক দ্রব্য বেচা-কেনা ও মানুষ ঠকানো রুমকি র্যা ফেল ড্র। এ ঘটনায় এলাকার অভিভাবক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরিণাকুন্ডু পৌরসভা সংলগ্ন মাঠে ১১ মে রাত থেকে শুরু হয়েছে মুিক্তযোদ্ধাদের আয়োজনে আনন্দ মেলার নামে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর। সেখানে চৈতালী অপেরার যাত্রাপালার কথা থাকলেও সারা রাত চলে মেয়েদের অশ্লীল নৃত্য। আর সেটিকে ঘিরে মঞ্চের পাশে বসে মদসহ বিভিন্ন নেশার আসর।

তারা আরও জানান, যাত্রা প্যান্ডেলের পিছনে গড়ে উঠেছে জমজমাট জুয়ার আসর। এখানে বসানো হয়েছে ৫টি জোয়ার বোর্ড এবং ওয়ান টেন নামক লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়া খেলা। আর এই জুয়ার আসরে ভিড় করছে উঠতি বয়সের স্কুল-কলেজগামী তরুণরা। এই মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে দৈনিক রুমকি র্যা ফেল ড্র প্রচারাভিযান অব্যাহত রাখলেও মূলত বিচিত্রানুষ্ঠানের নামে সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় ওয়ান টেনের মতো লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়া খেলা ও অশ্লীল নৃত্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আয়োজকদের মধ্যে একজন জানান, বিচিত্রা অনুষ্ঠানের কথা না বললে আনন্দ মেলার প্রশাসনিক অনুমতি মেলে না।

জোয়ার আসরের এক পার্টনার জানান, প্রতি রাতে জুয়া বোডের্র জন্য ৮৫ হাজার, রুমকি র্যা ফেল ড্র এর জন্য ৪৫ হাজার এবং ওয়ান টেন জোয়ার জন্য ৯০ হাজার টাকা মাঠ মলিকদের দেওয়া হয়।

তবে আনন্দ মেলা কমিটির সভাপতি রুকোনুজ্জামান বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তার মেলায় অশ্লীল নৃত্য বা জুয়া চলছে না।

এ ব্যাপারে হরিণাকুন্ডু থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাতাব উদ্দিন জানান, যাত্রা অনুষ্ঠানে যে অশ্লীল নৃত্য বা জুয়া চললে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভিনের সঙ্গে এ ব্যপারে কথা হলে তিনি বলেন, অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার বিষয় খুবই আপত্তিকর, আমি বিষয়টি শুনেছি। ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts