মেয়ের যৌন হয়রানির বিচার চাওয়ার বাবার জরিমানা!

bogra
বগুড়ার ধুনটে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে প্রকাশ্যে হাটের মধ্যে মারধরের ঘটনায় বিচার চাইতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাবা-মেয়ে।

প্রথমে থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে পুলিশ অফিসারের কূরুচিপূর্ণ গালিগালাজ শোনেন। এরপর এই অভিযোগের বিচার করতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট খোদ বাদীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে বসেন।

সোমবার বগুড়ার ধুনটে এ ঘটনা ঘটে।

স্কুলছাত্রীর বাবার থানায় করা অভিযোগে জানা গেছে, ধুনটের পূর্ব গোসাইবাড়ি গ্রামের দিনমজুর মফিজ উদ্দিনের মেয়ে গোসাইবাড়ি কে ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তাকে একই গ্রামের মুক্তা মিয়ার ছেলে এনামুল হক প্রেম নিবেদন করে। ব্যর্থ হওয়ায় তাকে স্কুলে যাতায়াত বন্ধ করে দেবার হুমকি দেয় এবং নানা সময় উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ৫ ফেব্রুয়ারি রোববার বিকালে স্কুল থেকে ফেরার পথে হাটের মধ্যে এনামুল তার পথরোধ করে।এক পর্যায়ে মেয়েটিকে মারধরও করে।

সোমবার সকালে ধুনট থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে স্কুলছাত্রীর বাবা মফিজ উদ্দিন আনোয়ার হোসেন নামে এক এসআই এর রোষানলে পড়েন। মফিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, এসআই আনোয়ার হোসেন তাকে ও মেয়েকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। কাছে থাকা স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করলে ওই কর্মকর্তা তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন।

অবশ্য থানায় করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ বখাটে এনামুল হককে গ্রেফতার করে। বিকালে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইব্রাহীম তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এছাড়া মেয়েকে প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগে তার বাবা মফিজ উদ্দিনকেও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাদীকে জরিমানা করা ও বিচার চাইতে গিয়ে বাবা-মেয়ের সঙ্গে পুলিশ অফিসারের আচরণ নিয়ে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ওই স্কুল ছাত্রী জানায়, বখাটে এনামুল এর আগে প্রেম করে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে এক মেয়েকে বিয়ে করেছিল। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। ফোনে আমাকে প্রায়ই বিরক্ত করতো। আমি তাকে নিষেধ করায় হাটের মধ্যে সে আমাকে মারধর করেছে।

স্কুলছাত্রীর বাবা দিনমজুর মফিজ উদ্দিন জানান, আমি মেয়েকে কখনো প্রশ্রয় দেইনি। বরং তারা আমার মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত এবং মারধর করেছে। আমার পক্ষে এতো টাকা জরিমানা পরিশোধ করা সম্ভব না।

ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এএসএম জিয়াউল আলম জানান, এসআই আনোয়ার হোসেন চরিত্র নিয়ে কথা বলায় ওই ছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভা করা হয়। তিনি আরো বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা ভুল তথ্য দেয়ায় ভ্রাম্যমান আদালত বাদীকে জরিমানা করেছেন।

ধুনট থানার এসআই আনোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ওই ছাত্রী বা তার বাবার সঙ্গে কোনো অসৌজন্য আচরণ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, ওই মেয়ের দোষ আছে। সে রাতে বাবার মোবাইল ফোনে ওই ছেলের সঙ্গে কথা বলতো। বাবা মফিজ উদ্দিন শাসন করলে এমন ঘটনা ঘটতো না। তাই তাকেও জরিমানা করা হয়েছে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts