রাজশাহীতে সুমাইয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা

রাজশাহীতে সুমাইয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা
Share Button

রাজশাহী নগরীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

শুক্রবার রাত ২টায় নিহত সুমাইয়া নাসরিনের বাবা গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম বাদি হয়ে হত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেছেন।

মামলায় হত্যার পাশাপাশি ধর্ষণেরও অভিযোগ আনা হয়েছে।

নগরীর বোয়ালিয়া থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহারুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, জোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় একটিই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের পর শনিবার দুপুরে তাদের পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছেন।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান জানান, ‘নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি তারা বিবাহিত ছিলেন না।

তিনি বলেন, প্রেমিকা সুমাইয়াকে রাজশাহীতে ডেকে এনে হোটেল কক্ষে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর প্রেমিক মিজানুর রহমান আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরো দুই একদিন সময় প্রয়োজন।

মরদেহের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষক এনামুল হক বলেন, সুমাইয়া নাসরিনকে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, মিজানুর রহমান আত্মহত্যা করেছেন কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি ঝুলন্ত অবস্থায় থাকলেও তারও দেহের বিভিন্নস্থানে দাগ পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার এলাকায় হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল থেকে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। বুধবার স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে উঠেছিলেন তারা

সুমাইয়া নাসরিন (২১) বগুড়ার উপশহর এলাকার বাসিন্দা আবদুল করিমের মেয়ে। তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করতেন। তার বাবা আবদুল করিম গাইবান্ধা জেলা ডিবির উপ-পরিদর্শক।

আর মিজানুর রহমান (২৩) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামের অমেদ আলীর ছেলে।

এ ঘটনায় শনিবারই ওই হোটেলের এক সুপারভাইজার ও তিন বয়কে আটক করে পুলিশ। তবে মামলা তাদের এখনো গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts