সুইফটের সফটওয়্যারই হ্যাক করা হয়েছিল

এবার রিজার্ভ ব্যাংককে শুনানিতে ডেকেছে যুক্তরাষ্ট্র
Share Button

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরিতে সুইফটের সফটওয়্যারই হ্যাক করা হয়েছিল। চুরির প্রায় তিন মাস পর একথা জানিয়েছে ব্রিটিশ নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমস।

সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনের (সুইফট) মুখপাত্র নাতাশা দেতারান সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।

তিন হাজার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সেবাদানকারী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সুইফট, যা বিশ্বের ১১ হাজার ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে।

সুইফট মুখপাত্র নাতাশা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ক্লায়েন্টের সফটওয়্যার হ্যাকিংয়ের টার্গেট নিয়ে ম্যালওয়্যার ঢুকানোর বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। নতুন করে হ্যাকিংয়ে ব্যবহৃত ম্যালওয়্যার অকার্যকর করতে সোমবারই সুইফট তাদের ক্লায়েন্টদের সফটওয়্যারের হালনাগাদ সরবরাহ করছে।

একই সঙ্গে সুইফটের সঙ্গে সংযুক্ত বিশ্বব্যাপী সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করতে সতর্কবার্তাও পাঠানো হবে বলে জানান প্রতিষ্ঠানের ওই মুখপাত্র।

ম্যালওয়্যারটি নাম হচ্ছে evtdiag.exe। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট ডাটাবেজ থেকে হ্যাকারদের নিশানা পরিবর্তন করে দিতে পেরেছে।

বিএই আরো জানান, ম্যালওয়্যারটি হ্যাকাররা অ্যাডমিন অ্যাকসেস হাতে পাওয়ার পরই ইনস্টল করে দিয়েছে।

তাদের আরো বড় ধরনের পরিকল্পনা ছিল। তবে হ্যাকাররা ঠিক কীভাবে টাকা স্থানান্তরের নির্দেশনা দিয়েছিল সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।

নিশ জানান, ম্যালওয়্যারটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল যে, তার বাংলাদেশ ব্যাংকের ইনস্টল করা সুইফট সফটওয়্যারের কোড সামান্য পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম। আর এভাবে তারা সুইফট নেটওয়ার্কে ঢুকে ব্যাংকের অনলাইন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করেছে।

আর এই পদক্ষেপগুলো যখন সম্পূর্ণ হয় তখনই ম্যালওয়্যারটি টাকা স্থানান্তরের নির্দেশনা সম্বলিত তথ্য মুছে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি এটি লেনদেনের হার্ডকপি সংরক্ষণের জন্য স্থাপিত প্রিন্টারেও আক্রমণ করেছে ফলে কোনো তথ্যই প্রিন্ট হয়নি।

উল্লেখ্য, পরপর প্রিন্টারে সমস্যা দেখা দেয়ার পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেননি। তারা ভেবেছেন প্রিন্টার নষ্ট হয়েছে।

আর এভাবেই তিনদিন পর্যন্ত এটি বিকল অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি হয়ে গেছে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts