গণধর্ষণের শিকার যুবতী থানায়; পুলিশের কান্ড!

গণধর্ষণের শিকার যুবতী

গণধর্ষণের শিকার যুবতী থানায় গিয়ে ভেবেছিলেন সুবিচার পাবেন। কিন্তু, সেখানে যে তাঁর জন্য আর বড় দুঃস্বপ্ন অপেক্ষা করেছিল, আঁচটিও পাননি। মেয়েটির অভিযোগ, তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধেই থানার মধ্যে জোর করে তিন রাত তিন দিন তাঁকে আটকে রাখা হয়। তাঁকে শুতে দেওয়া হয়েছে ঠান্ডা মেঝেতে। কিচ্ছুটি খেতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। উপরন্তু উপোসী পেটে সহ্য করতে হয়েছে পুলিশি অত্যাচারও। এর পরে যা ঘটেছে, থানায় গিয়ে এমন অভিজ্ঞতা অনেকের হয়েছে। গণধর্ষণের অভিযোগ না নিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল মানসিক ও শারীরিক ভাবে বিধ্বস্ত বছর ৩৬-এর ওই যুবতীকে। শেষমেশ একটি এনজিও-র হস্তক্ষেপে শুধুমাত্র একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের পালঘর থানা এলাকায়। খবর-এই সময়

পালঘর থানার ডিউটি অফিসার সালুঙ্খের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ওই যুবতীর। নিগৃহীতার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্তব্যরত ওই পুলিশ অফিসারই জোর করে থানায় আটকে রেখে অত্যাচার করেন। ধর্ষণের অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে সালুঙ্খে উলটে তাঁকেই দোষারোপ করেন। পরে একটি এনজিও-র চাপের মুখে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে যুবতীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শত অনুরোধেও গণধর্ষণের অভিযোগ নিতে চাননি ওই অফিসার।

জানা গিয়েছে, চাকরির কারণে বছর ৩৬-এর ওই যুবতীতে পলঘরে একাই থাকেন। আন্ধেরিতে তিনি কেয়ারটেকারের কাজ করেন। গত ১৫ মে ধর্ষণে অভিযুক্তদের একজনের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। ওই রাতে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার কিনতে গিয়ে ছেলেটির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পুলিশকে যুবতী জানান, তিনি খাবারের অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করার সময়, সঞ্জয় দুবে পরিচয় দিয়ে ছেলেটি গায়ে পড়ে আলাপ করে। অভিযোগ, এর ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় ছেলেটি বাড়িতে এসে, ভয় দেখিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে। একটি আইকার্ড দেখিয়ে নিজেকে পুলিশ বলে পরিচয় দিয়েছিল সঞ্জয়। তারপর আরও তিনবার এক এসে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে যায় সঞ্জয়।

গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে গত ৬ অগস্ট। সঞ্জয় দুবে নামে ওই যুবক সঙ্গে করে আরও দুই বন্ধুকে নিয়ে এসে গণধর্ষণ করে। নিগৃহীতার কথায়, ‘আমাকে পতিতাবৃত্তির মামলা জেলে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে এক একে তিন জনে মিলে ধর্ষণ করে।’ ওই রাতেই পলঘর থানায় গিয়ে যুবতীর বিড়ম্বনা আরও বাড়ে।

যুবতীর অভিযোগ, ধর্ষণের বিরুদ্ধে তিন জনের বিরুদ্ধে FIR না নিয়ে, উল্টে তিনি কেন একা থাকেন, কেন সেসময় চেঁচালেন না, তা নিয়ে কটাক্ষ করা হয়। এরপর মেয়েটির বাড়িতে তদন্তে এসে, সেখানেও তাঁর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ডিউটি অফিসার। সেখান থেকে যুবতীকে নিয়েই থানায় ফিরে আসেন। এরপর মেয়েটির অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁকে বাড়িতে যেতে দেওয়া হয়নি। থানাতেই তিন রাত আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে নিগ্রহও করেছেন ওই অফিসার।
যদিও অভিযুক্ত অফিসার এ নিয়ে মিডিয়ার সামনে কোনওরকম মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts