ধর্ষণের পর গৃহকর্মী খুন, ঢাবি ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

rape_logo

রাজধানীর কাফরুলে গৃহকর্মী জনিয়া বেগম (১২) খুনের ঘটনায় যুগ্ম সচিব আহসান হাবিবের ছেলে রুম্মান (২৬) জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত জনিয়ার মা ফুলবানুর দাবি, রুম্মানই তার মেয়েকে ধর্ষণের পর ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে।

সোমবার এই দাবি জানিয়ে রুম্মানের গ্রেফতার চেয়ে ফুলবানু স্বজনদের নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেছেন। এতে এলাকাবাসীও স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত রুম্মান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র শিক্ষার্থী। তার বাবা আহসান হাবিব জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) পরিচালক।

মিরপুর-১৩ নম্বরে ন্যাম গার্ডেনের তিন নম্বর ভবনের ৪০৩ বি ফ্ল্যাটে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন রুম্মান।

রুম্মানদের বাসায় কাজ করতেন সেনপাড়া নিবাসী গৃহকর্মীর ফুলবানু। তিনি অসুস্থ হওয়ায় ৩/৪ দিন ধরে ওই বাসায় কাজ করছিল দ্বিতীয় সন্তান জনিয়া।

রোববার সকালে রুম্মানদের বাসায় কাজ করতে যাওয়ার পর বেলা ১০টার দিকে ১০তলা ভবনটির নিচ তলা থেকে জনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ সময় জনিয়ার শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মুখ ওড়না দিয়ে পেঁচানো থাকলেও নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। ডান হাত থেঁতলানো, স্তনের নিচে এবং দুই পায়ের হাঁটুতে জখমের কালো দাগ ছিল বলে সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান।

এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ন্যাম গার্ডেনের তিন নম্বর ভবনের চার তলায় জামুকার পরিচালক আহসান হাবিবের বাসায় জনিয়ার মা ফুলবানু কাজ করতেন। গত তিন-চার দিন ধরে মায়ের পরিবর্তে জনিয়া কাজ করছিল।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জনিয়া আহসান হাবিবের বাসায় কাজ করতে যায়। সকাল ৯টার দিকে তিন নম্বর ভবনের সুপারভাইজার এমদাদ হক কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে বাসার পাশে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় জনিয়াকে পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানান কামারুজ্জামান।

পরে সুপারভাইজার এমদাদ হক কাফরুল থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে জনিয়ার লাশ উদ্ধার করে।

এদিকে জনিয়ার মা ফুলবানু জানান, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সেনপাড়ায় থাকেন।

তার স্বামী ওসমান গণি রিকশা চালান আর তিনি বাসা বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। অসুস্থতার জন্য ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তিনি আর কাজ করতে পারছিলেন না।

এ কারণে তার পরিবর্তে মেয়ে জনিয়াকে রুম্মানদের বাসায় কাজ করতে পাঠিয়েছিলেন তিনি। ৪/৫ দিন ধরে সে ওই বাসায় কাজ করছিল।

রোববার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ তাকে জরুরি ভিত্তিতে রুম্মানদের বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে গিয়ে দেখেন নিচতলায় রক্তাক্ত অবস্থায় জনিয়ার লাশ পড়ে আছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এ সময় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, গৃহকর্তার ছেলে রুম্মন তার মেয়েকে ধর্ষণের পর ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে।

এ সময় তিনি পুলিশকে রুম্মানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেফতার দাবি জানান। কিন্তু পুলিশ তার কথা না শুনে জনিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় বলে অভিযোগ করেন ফুলবানু।

তবে কাফরুল থানার ওসি (তদন্ত) আসলাম উদ্দিন জানান, রোববার রাতে জনিয়ার বাবা ওসমান গনি বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

ওসমান গণির দাবি, মামলার অভিযোগে তিনি আহসান হাবিব, তার স্ত্রী ও ছেলে রুম্মানের বিরুদ্ধে জনিয়াকে হত্যার অভিযোগ করেছেন। কিন্তু পুলিশ তাকে না জানিয়ে অপমৃত্যুর মামলার করেছে।

এ মামলাটি হত্যা মামলার পরিবর্তে অপমৃত্যুর মামলা হওয়ায় সোমবার জনিয়ার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেন তার বিক্ষুব্ধ স্বজনরা।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তারা কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ডে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। সেখান থেকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে তারা কাফরুল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে তারা ন্যাম গার্ডেনের সামনে অবস্থান নেন।

এসআই কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, জনিয়াকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ন্যাম গার্ডেনের তৃতীয় ভবনের সুপারভাইজার এমদাদ ও ও তিন জন লিফটম্যানকে আটক করা হয়েছে।

তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের পরও জনিয়া নিহতের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের প্রসঙ্গে কামারুজ্জামান বলেন, রোববার প্রাথমিকভাবে নিহতের মা ও ঘটনাস্থলের উপস্থিতদের বক্তব্য শুনে মনে হয়নি তাকে কেউ মেরেছে কি না বা কেউ মারতে দেখেছে কি না। তাই অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি জানান, সোমবার জনিয়ার পরিবারের বক্তব্য মামলায় সম্পূরক অভিযোগ হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ধর্ষণ ও হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment