নগ্ন ছবি তুলে টাকা আদায়

Adult photo

রাজশাহীর বাগমারা থেকে মামলা সংক্রান্ত কাজে রাজশাহী আদালতে এসেছিলেন ইয়ানুস আলী ইনু (৪৯) ও আব্দুল বারিক (৬০)। মামলার কাজ সেরে শিরোইল এলাকায় এক পরিচিত নারীর বাড়িতে যান তারা।

সেখানে একটি রুমে নিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নারীর সঙ্গে তাদের আপত্তিকর ছবি তোলা হয়। এরপরে ওই ছবি দেখিয়ে ইনু ও বারিকের কাছ থেকে দাবি করা হয় ৭০ হাজার টাকা।

বুধবার বিকেল নগরীর শিরোইল এলাকায় একটি বাড়ি এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগীরা র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করলে অভিযান চালিয়ে ওই বাড়ি থেকে এ ধরনের প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকা টুম্পা ও ইয়াসমিন নামে দুই নারী, শাহিন ও রকি নামে দুই ছেলেকে আটক করে।

প্রতারণ চক্রের শিকার বাগমারা উপজেলার মীর্জাপুর এলাকার ইয়ানুস আলী ইনু ও সাজুরিয়া গ্রামের আব্দুল বারিক জানান, তারা দুইজনে মামলার কাজে রাজশাহী কোর্টে এসেছিলেন। বাড়ি থেকে আসার সময় তাদের এলাকার রেজাউল নামে এক ব্যক্তি ৫০০ টাকা হাতে দেয় ও শাহনাজ নামে এক নারীর কাছে ওই টাকা পৌঁছে দিতে বলে।

সেই সঙ্গে ওই নারীর মোবাইল ফোন নম্বর তাদের দিয়ে দেয়া হয়। আদালতের কাছ শেষ করে তারা শাহনাজের অবস্থান জানার জন্য ফোন করেন। ওই সময় শাহনাজ তাদের শিরোইল এলাকায় বাড়িতে আসতে বলেন। ৫০০ টাকা দেয়ার জন্য শাহনাজের বাড়িতে তারা দুইজনে উপস্থিত হলে এ প্রতারণার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তারা জানান, শাহনাজের বাড়িতে উপস্থিত হলে তাদের দুইজনকে একটি রুমে নিয়ে আসা হয়। এরপরে কয়েকজন নারী ও পুরুষ মিলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ইয়াসমিন নামে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলতে বাধ্য করে।

সেই সঙ্গে দাবি করে দিনের মধ্যে ৭০ হাজার টাকা না দিয়ে এ ছবিগুলো বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করা হবে। এ সময় তারা অনুরোধ করলে বিষয়টি ২০ হাজার টাকায় সমাধান হয়। প্রতারকচক্র তাদের কাছে থাকা ৫ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল কেড়ে নেয় ও দুই ঘণ্টার মধ্যে ২০ হাজার টাকা ফ্লেক্সিলোডের দোকানে দিতে বলে।

নগরীর কুমারপাড়া এলাকার মীমের ফ্লেক্সিলোডের মাধ্যমে তারা ২০ হাজার টাকা দেয়। এ ঘটনার পরে তারা দুইজন র‌্যাব-৫ এর অফিসে গিয়ে অভিযোগ করেন। এরপরেই র‌্যাবের একটি দল র‌্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াডন লিডার এবিএম মোবাশ্বের নেতৃত্বে শাহনাজের বাড়ি অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করে। পরে র‌্যাবের কাছে ইয়াসমিন বিষয়টি স্বীকার করে।

র‌্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াডন লিডার এবিএম মোবাশ্বের জানান, ৪ মাস ধরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে তারা এ কাজ করে আসছিল।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment