পার্টনারের গুলিতেই মারা গেছেন টুকু

পার্টনারের গুলিতেই মারা গেছেন টুকু
Share Button

নিজের পিস্তলের গুলিতে নয়। গুলি করেই হত্যা করা হয়েছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও রাজশাহী চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক প্রশাসক জিয়াউল হক টুকুকে। তার পিস্তল থেকেই সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক পার্টনার তাকে গুলি করে হত্যা করেন। অবশ্য প্রথমে নিজের পিস্তলের গুলিতে মারা যাওয়ার সংবাদ রটলেও পরে হত্যার বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

চেম্বারে বসে তার লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে ব্যবসায়িক পার্টনার ঢাকার ব্যবসায়ী নয়ন নামে এক যুবক তার বুকে গুলি করেন। পুলিশ এখন তাকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে।

প্রথমে খুনের ঘটনা নিয়ে নাটক সাজানো হলেও পর ওই যুবকই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ফোনে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এমন খবর পেয়ে পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে।

এর আগে, রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান টুকু। ঘটনার পর নিজের পিস্তল পরিষ্কার করতে গিয়ে গুলিতে টুকু নিহত হয়েছে বলে নাটক সাজানো হলেও বিষয়টি এখন পরিষ্কার করেছে নগর পুলিশ।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, তাকে ফোন করে নয়ন জানিয়েছেন, তার হাত থেকেই পিস্তলের গুলি বেরিয়ে টুকুর বুকে বিদ্ধ হয়। এরপর তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে রাজশাহী নগর ভবনের সামনে নিজ চেম্বারে ঢাকার পার্টনার নয়ন ও স্থানীয় আরও চার বন্ধুকে নিয়ে বসেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল ইসলাম টুকু। এক সময় অপর তিন বন্ধু জসিম উদ্দিন, রবিউল ইসলাম ও তরিকুল চেম্বারের বাইরে আসলে গুলির শব্দ পান। এ সময় টুকুকে বাইরে নিয়ে এসে নয়ন জানান, নিজের পিস্তল পরিষ্কার করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন টুকু।

ঘটনার পর তিনবন্ধু রক্তাক্ত টুকুকে হাসপাতালে ভর্তি করলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তবে ঘটনার পরপরই নয়ন পালিয়ে যান। এরপর থেকেই শহরে প্রচার শুরু হয় নিজের পিস্তল পরিষ্কার করতে গিয়েই অসাবধানতাবশত টুকু নিহত হয়েছেন। প্রথমে পুলিশও এ তথ্য জানায়। পরে নয়ন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের এবং থানায় ফোন করে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। এরপর পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান শুরু করে। তবে রাত ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার সন্ধান পায়নি পুলিশ। তাকে ধরতে বিভিন্ন থানায় বার্তাও পাঠানো হয়েছে।

টুকুর ব্যবসায়িক পার্টনার জসিম উদ্দিন, রবিউল ইসলাম ও তরিকুল হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, তারা চেম্বারের বাইরে ছিলেন। ভেতরে তার সঙ্গে নয়ন নামে ঢাকার এক ব্যবসায়ী ছিলেন। হঠাৎ রক্তাক্ত টুকুকে নিয়ে এসে তাদের জানানো হয় পিস্তল পরিষ্কার করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন টুকু।

এদিকে, ঘটনার পর ওই চেম্বার থেকে টুকুর লাইসেন্স করা পিস্তল ও ব্যবহৃত গুলির খোসা, রক্তমাখা তোয়ালে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুলিটি তার বাম বগলের নিচে বিদ্ধ হয়ে পিঠ ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ব্যবসায়িক পার্টনার নয়ন প্রথমে বাইরে নিয়ে এসে অপর বন্ধুদের সঙ্গে নাটক সাজিয়ে নিজে পালিয়ে যান। নিহিত জিয়াউল হক টুকুর বাড়ি নগরীর ষষ্ঠীতলা এলাকায়। তবে এ ব্যাপারে তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, প্রথমে নিজের পিস্তলের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি শুনেছিলেন। পরে তাকে ফোন করে নয়ন কান্নাকাটি করে জানান ভুলবশত পিস্তল নিয়ে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে তার হাত থেকেই গুলি বেরিয়ে গেছে। তবে তিনি ঢাকার পথে রওনা দিয়েছেন। আত্মসমর্পণ করতে চান বলেও জানিয়েছেন নয়ন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) পশ্চিম একেএম নাহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। নয়নকে আটকের চেষ্টা করছেন তারা।

রাত ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টুকুর লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ছিল। সেখানে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা ভীড় জমিয়েছেন। তার চেম্বারও ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts