পুরুষ নির্যাতন দমন আইনের দাবি

পুরুষ নির্যাতন দমন আইনের দাবি
Share Button

পুরুষ নির্যাতন দমন আইনের দাবিতে এবার গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী শেখ খায়রুল আলম। যিনি এর আগে (গত ৪ ফেব্রুয়ারি) একই দাবিতে আয়োজন করেছিলেন মানববন্ধনের। সোমবার (৪ জুন) দুপুর দুটায় নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তিনি।

গণস্বাক্ষরে উল্লেখ করা হয়, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকার। নারী নির্যাতন দমন আইন আছে। পুরুষ নির্যাতন দমন আইনও চাই- এমন দাবি সম্বলিত কাগজে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী শেখ খায়রুল আলমের দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করে শতাধিক লোকজন গণসাক্ষর দেয় ও মন্তব্য লেখেন।

পুরুষ নির্যাতন দমন আইনের দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করে গণস্বাক্ষর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ভুক্তভোগী শেখ খায়রুল আলম জানান, ‘নারীরা একটা মিথ্যা মামলা করলে ওয়ারেন্ট হয়। যাচাই বা তদন্ত লাগে না। যাকে আসামি করা হয় সে ব্যক্তির সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই বাছাই করার এমনকি তার দ্বারা এ ঘটনা ঘটতে পারে কিনা তা দেখারও প্রয়োজন পড়ে না। ৫-১০ বছর মামলা চলার পর তাকে নিরাপরাধ প্রমাণ করে খালাস পেতে হয়। এতে জীবন শেষ হয়ে যায়। দেশের শতকরা ৮৫ ভাগ পুরুষ নানাভাবে নারীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মান সম্মানের ভয়ে কিছু বলতে পারে না তারা। তাই এখন সময় এসেছে।’

নারায়ণগঞ্জের পরিবেশবাদী মানবাধিকার সংগঠন নির্ভিকের প্রধান সমন্বয়ক ও নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল স্বাক্ষর করে লেখেন, ‘নারী-পুরুষের সমান অধিকার যেখানে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সোচ্চার সেখানে পুরুষের ওপর নির্যাতনেরও আইন হওয়া উচিত।’

অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষর করে লিখেন, ‘পুরুষ নির্যাতন বন্ধে আইন হওয়া দরকার। যেহেতু নারী নির্যাতন আইন আছে। সকল নাগরিকের সমান সুযোগ থাকা দরকার।’

এছাড়াও শতাধিক মানুষ পুরুষ নির্যাতন দমন আইন চাই দাবিতে গণস্বাক্ষর করেন ও একই মন্তব্য লিখেন। স্ত্রীর নির্যাতনের স্বীকার শেখ খায়রুল আলম সদর উপজেলার ফতুল্লার ভুইগর পশ্চিমপাড়া এলাকার শেখ সাহা আলমের ছেলে।

ভুক্তভোগী শেখ খায়রুল আলম জানান, ২০১৩ সালের ১৮ অক্টোবর একই এলাকার আজাহার মিয়ার মেয়ে শারমিন আফরোজার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। বিয়ে করলেও শারমিনের ভাই ও দুলাভাই দেশে ফিরে আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দিবে বলে জানায় মেয়ের পরিবার। তবে বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর জন্য মাসিক হাত খরচ দিতেন খায়রুল। স্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী দামি পোশাক এমন কি ল্যাপটপ কেনার জন্যও টাকা দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ১৪ নভেম্বর খায়রুলের বাড়িতে একাই চলে আসে শারমিন। এসে শাশুড়ি ও স্বামীর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। পরের বছর ২০১৪ সালের ৩১ মে রাতে শারমিন ফোন করে তাকে দেনমোহর এক লাখ টাকা দিয়ে তালাক দিতে চাপ দেয়। হুমকি ধামকিও দেয়।

শেখ খায়রুল আরো জানান, ২০১৪ সালের ৬ জুন স্ত্রী শারমিন আফরোজা তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় অভিযোগ দেন। এছাড়াও শারমিন প্রায় সময় গভীর রাতে বাসায় ফেরেন। কখনও কখনও আবার রাতে বাসায়ও ফেরে না।

ভুক্তভোগী শেখ খায়রুল আলম বলেন, ‘সে আমার বাবা মা ও আমার নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমার জীবন আজ শেষ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার সহ বিভিন্ন জনের কাছে গেলেও তারা কোন সমাধান করতে পারেনি। উল্টো শারমিন বাসায় এসে নিজেই নিজের শরীরে আগুন দেয়। আগুন দিয়ে মামলা দিয়ে আমাকে জেল খাটাতে চেষ্টা করে। আদালতে আমার বিরুদ্ধে একের এক মামলা দায়ের করে যাচ্ছে। আর আমার স্ত্রী আদালতে আসে না। তারা বলেছে আমাকে শিক্ষা দিবে।’

এদিকে গত ২৪ মার্চ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দায়ের করলে মানবাধিকার কমিশন উদ্বেগ প্রকাশ করে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে চিঠি প্রদান করেন।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts