ভাইয়ের এসিডে ঝলসে গেছে বোনের শরীর

Share Button

নাগেশ্বরীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সৎভাইয়ের দেয়া এসিডে ঝলসে গেছে বোনের শরীর। হাসপাতালের বিছানায় অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করছে এসিডদগ্ধ ওই নারী।

জানা গেছে, উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের পূর্ব রামখানা তালুকদার পাড়ার মৃত হয়রত আলীর পুত্র হায়দার আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার সৎবোন মালেকা বানুর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।

এরই জেরে শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হায়দার আলী, তার দুই ছেলে দুলাল হোসেন ও মিঠু, বোনজামাই গাজীউর রহমান মাস্টার, ফুফাত ভাই রুহুল আমিনসহ সিধ কেটে মালেকা বানুর ঘরে প্রবেশ করে।

তারা তাকে মুখ চেপে ধরে বিছানা থেকে টেনে-হিচড়ে নামিয়ে শরীরে এসিড ঢেলে দরজা খুলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এসিডে ঝলসে যাওয়া শরীরের প্রচণ্ড যন্ত্রণায় তিনি চিৎকার করে ঘর থেকে বেরিয়ে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী বোরো ধান ক্ষেতের কাদা-পানিতে গড়াগড়ি দিতে থাকেন।

তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম, আলমগীর হোসেন, রোজিনা আক্তার, স্বপ্না খাতুনসহ অনেকেই ছুটে এসে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী পুকুরের পানিতে কিছুক্ষণ নামিয়ে রাখেন।

পরে ভোরে তাকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ চিকিৎসার জন্য নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জিআরএম মোকসেদুর রহমান বলেন, এটি ক্যামিকেল বার্ন। এতে তার শরীরের প্রায় ২৭ ভাগ ঝলসে গেছে। সুচিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মালেকা বানু যুগান্তরকে জানান, তার স্বামী হায়দার আলী মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। বড় ছেলে মাজহারুল ইসলাম (১৬) অন্যের দোকানের কর্মচারি। সে সেখানেই থাকে। ছোট ছেলে মনিরুজ্জামানকে (১২)পাশের ঘরে রেখে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।

মালেকা বানু অভিযোগ করেন, এর আগে ২০০৯ সালে তারা একবার আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। সে সময় তাকে বাঁচাতে এসে তার বোন নুরজাহান তাদের হাতে প্রাণ হারায়। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তারা তার দুই পা পিটিয়ে ভেঙে দেন।

নাগেশ্বরী থানার ওসি আফজালুর রহমান বলেন,আমরা তদন্ত করছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts