ভোটের উপহার ধর্ষন!

ডিভোর্স না দেয়ায় স্বামীকে ২৯ ঘণ্টা ধর্ষণ করলেন স্ত্রী!

নির্বাচন মানেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে মরিয়া থাকেন ভোটে অংশ নেয়া প্রার্থীরা। আর এক্ষেত্রে বিভিন্নজন বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন। কেউ সৎ উপায়ে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন।

আবার কেউ অসৎ উপায়ে বা হুমকি দিয়ে প্রতিপক্ষের লোকদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়ে ভোটে জয়লাভ করেন। বামদের কর্মী বলে পরিচিত এক বধূকে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বুধবার কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার আমবাড়ি-ভজনপুর এলাকায় বাসিন্দা ওই বধূ থানায় অভিযোগও করেছেন।

গত ২৯ এপ্রিল বেহালা পূর্ব কেন্দ্রের বাম-কংগ্রেস জোট সমর্থিত নির্দল প্রার্থী অম্বিকেশ মহাপাত্রের এক পোলিং এজেন্টের বাড়িতে গিয়েও তৃণমূলের কর্মীরা একই ধরনের হুমকি দিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ওই পোলিং এজেন্টকে বুথে যেতে বারণ করা হয়। হুমকি দেয়া হয়, তিনি বুথে গেলে তার স্ত্রী ও কন্যাকে ধর্ষণ করা হবে।

অম্বিকেশবাবু পরের দিন তার বাড়ি গিয়ে তাকে বুথে নিয়ে যান। কোচবিহারেও ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বাম নেতারা। সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক তারিণী রায় বলেন, ওই বধূর পরিবার আমাদের সমর্থক। তাই ওদের এমন হুমকি দেয়া হয়েছে। আমরা ওদের পাশে আছি।

নাটাবাড়ি কেন্দ্রের সিপিএমের প্রার্থী তমসের আলি বলেন, কেবল ওই পরিবার নয়, নাটবাড়ির বলরামপুর, ডাওয়াগুড়ি, চিলাখানা, শীতলখুচির বিভিন্ন এলাকা এবং মাথাভাঙার ফুলবাড়িতে বাম কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

ওই বধূ পুলিশকে জানিয়েছেন, এ দিন সকাল ৯টা নাগাদ তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্যের নির্দেশে জনা চারেক ব্যক্তি তাদের বাড়ি যান। তাকে ও তার স্বামীকে ভোট দিতে বারণ করেন তারা। তার স্বামীর ভোটার কার্ড চাওয়া হয়। তা না দেয়ায় তার স্বামীকে মারধর করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে গেলে ওই বধূও প্রহৃত হয়েছেন। শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ। মহিলাকে ধর্ষণের হুমকি দেয়া হয়। এমনকি, বিষয়টি পুলিশকে জানালে তাদের খুন করে দেয়ার ভয়ও দেখানো হয়েছে। তৃণমূল অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।

দলের জেলা সভাপতি তথা নাটাবাড়ির তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, সাধারণ মানুষ জোটের সঙ্গে নেই তা বুঝতে পেরেই সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, বামেরাই সন্ত্রাস করছে। তমসের আলির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ করেন তিনি। কিন্তু শুধু ওই মহিলাই নন, এ দিন বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গ্রামে গ্রামে তৃণমূলের উস্কানিতে সন্ত্রাস বাড়ছে। কয়েক জায়গায় বাইক বাহিনী নেমেছে।

বাম নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে মারধর ও খুনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বামেদের পক্ষ থেকে পুলিশ, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও জানানো হয়েছে।

তমসের বলেন, বরাবরই তৃণমূল এখানে সন্ত্রাস করে। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কোচবিহারের জেলাশাসক পি উল্গানাথনও বলেন, ইতিমধ্যে ওই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ওই মহিলার সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে। যা যা করণীয়, সবই করা হবে।

কোচবিহারের জেলা পুলিশ সুপার সুনীল যাদব বলেন, যেসব ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, ইতিমধ্যেই সব জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী টহলদারি শুরু করেছে। রাতভর সমস্ত জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে।
সূত্র: আনন্দবাজার

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts