যৌনপল্লিতে বিক্রি করতে যেভাবে ফাঁদে ফেলা হয় তরুনীদের

যৌনপল্লিতে বিক্রির ফাঁদ

ভালোবেসে বাড়ির থেকে পালিয়ে এসেছিলেন বছর একুশের এক তরুণী। ভেবেছিলেন প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে করে সুখে সংসার করবেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের ওই তরুণীর ঠাঁই হয়েছিল মুম্বাইয়ের এক যৌনপল্লিতে। কারণ প্রেমিক তাকে সামান্য টাকায় বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ।

ভারতের কলকাতা-ভিত্তিক বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন চিত্র ওঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কেবল ওই তরুণী নয়, কলকাতার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং মহকুমার ক্যানিং ১ ও ২, বাসন্তী, গোসাবা ব্লক, সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় এখন প্রায়শই ঘটছে এই ঘটনা।

জানা গেছে, দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়েই কিছু লোক মেয়েদের কাজ দেয়ার নাম করে পাচার করে দেয়। অনেকে আবার বিয়ে করে নিয়ে এসে যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দিচ্ছে।

জয়নগরের এক তরুণীর বিয়ে হয়েছিল প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে। ওই যুবক মুম্বাইতে কাজ করত। বিয়ের পর সে স্ত্রীকে নিয়ে মুম্বাই চলে যায়।

পরে জানা গেছে, সেখানকার এক যৌনপল্লিতে তরুণীকে বিক্রি করে দেয়া হয়। বছর পঁচিশের ওই মেয়েটির কোনো খোঁজ না মেলায় তার বাড়ির লোক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরেই ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।

নিত্য নারী পাচারের ঘটনা ঘটছে। ভারতের পুণে, গোয়া, মুম্বাই, দিল্লি এবং আমেদাবাদসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ওই সব মেয়েদের পাচার করে দেয়া হচ্ছে।

বিড়ম্বনার এখানেই শেষ নয়। পাচার হয়ে যাওয়ার পর ওই সব মেয়েরা যখন গ্রামে ফিরে আসে, তখন তাদের সঙ্গে কেউ কথা বলতে চান না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাড়ির লোকেরাও তাদের নিতে নারাজ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খিদের যন্ত্রণা মেটাতে হতাশ মেয়েগুলোর মধ্যে অনেকেই পুরনো জায়গায় ফিরে যেতে চায়। এভাবে চলে যৌনপল্লির কর্মী সংগ্রহের দুষ্ট চক্র।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts