রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন যৌনকর্মীরা, থানায় চিঠি স্কুলের

bdnews
Share Button

কারও পরনে টপ-জিন্‌স, হাই হিল, চড়া লিপস্টিক। কেউ আবার শাড়ি পরে। শোভাবাজারের সোনাগাছিতে প্রতিদিন রাস্তার পাশে এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকেন যৌনকর্মীরা। এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সম্প্রতি বড়তলা এবং জোড়াবাগান থানাকে চিঠি দিয়েছেন রবীন্দ্র সরণির একটি স্কুলের শিক্ষকেরা।

কলকাতা পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দিভাষী উমা বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার সংখ্যা ১০০। অভিযোগ, এস সি অ্যালেন মার্কেট-লাগোয়া ওই স্কুলের যাতায়াতের পথে অধিকাংশ সময়েই দাঁড়িয়ে থাকেন যৌনকর্মীরা। স্কুলের প্রাথমিক বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয়কুমার দুবের কথায়, ‘‘স্কুলের পাশেই একটি বাড়িতে থাকেন যৌনকর্মীরা। বাইরে থেকে আসা মহিলারা অনেক সময় স্কুলের সামনেই দাঁড়িয়ে থাকেন। বারণ করলেও কাজ হয় না।’’ আরেক শিক্ষক দীপক রায় বলছেন, ‘‘স্কুলে পৌঁছতে ওই রাস্তা দিয়েই যেতে হয়। অস্বস্তি হয়।’’ অসন্তোষ রয়েছে অভিভাবকদের মধ্যেও। এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘ছেলেকে স্কুলে দিতে যাই। একবার ও জিজ্ঞাসা করেছিল, বাবা, ওরা কী চায়!’’

সমস্যায় পড়ছেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। স্থানীয় এক মহিলার কথায়, ‘‘ক’দিন আগে বাড়ি আসার সময় রাস্তায় জামাইকে ঘিরে ধরে মেয়েরা। কোনওরকমে নিজেকে ছাড়ায় জামাই। বাড়িতে ফিরে রাগ করে বলেছিল, আপনাদের বাড়ি আর আসব না।’’ আরেক বাসিন্দা গোপাল দে বলছেন, ‘‘সমস্যা এড়াতে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের ঘুরপথে বাড়িতে আসতে বলি।’’ ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুনন্দা সরকারের দাবি, ‘‘এই নিয়ে আগেও পুলিশের কাছে আবেদন জমা দিয়েছি। কিন্তু সুরাহা হয়নি।’’
সোনাগাছির যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করা ‘দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি’র সেক্রেটারি কাজল বসু জানাচ্ছেন, দালাল-রাজের কারণেই যৌনকর্মীরা পেটের তাগিদে রাস্তায় দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁর কথায়, ‘‘ওদের বড় রাস্তার দিকে যেতে বারণ করেছি। এ নিয়ে কয়েকবার মিটিং-ও হয়েছে। যারা স্কুলের সামনে দাঁড়াচ্ছে, তারা হয়তো স্কুলের কথা না-জেনেই দাঁড়াচ্ছে।’’

এ নিয়ে ডিসি (নর্থ) শুভঙ্কর সিংহ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘স্কুলের অভিযোগের ঘটনা জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখব।’’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts