সুন্দরী ছাত্রীরা যেভাবে আহসানউল্লাহর সেই শিক্ষকের লালসার শিকার!

Mahfuj-Sir-Ahsanullah

মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌস। হালে আলোচিত-সমালোচিত। তার বিরুদ্ধে জমা পড়েছে একাধিক যৌন নিপীড়ন বিষয়ে অভিযোগ। নানান ছলচাতুরীতে তিনি সিদ্ধহস্ত। তিনিই রাজধানীর অন্যতম সেরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

তড়িৎ কৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বও পালন করছিলেন। ওই পদের বদৌলতে তিনি নানান প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অপকর্ম করতেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই শিক্ষক একজন নয় অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌননিপীড়নে জড়িয়েছেন। কিন্তু অবশেষে একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগে ওই শিক্ষক ফেঁসে গেছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌসকে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাকে ঘিরে ক্রমেই নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।

একটি সূত্র জানায়, সুন্দরী ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করে তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছেন তিনি। লাজ-লজ্জার ভয়ে অনেকেই মুখ খুলেননি। সহ্য করছেন নিরবে।
Mahfuj-Sir-Ahsanullah-university

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী জানান, তিনি মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তার কক্ষে যাওয়ার আমন্ত্রন জানাতেন। বলতেন যে কোন সমস্যা নিয়ে আমার কক্ষে চলে এসো।

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, মাহফুজ সাহেব বলতেন তোমাদের টাকা সময়মত জমা না দিতে পারলে আমি ম্যানেজ করে দেব। বিশেষ করে সুন্দরী ছাত্রীরা ছিল তার প্রথম টার্গেট। তিনি সুন্দরীদের বলতেন তোমাদের জন্যে অনেক কিছুই আমি করতে পারি। তোমাদের সমস্যার সমাধানের সব ধরনের চেষ্টা করবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সহকর্মী শিক্ষক জানান, মাহফুজ আপাদমস্তক একজন নোংরা মানুষ। তিনি ফুসলিয়ে ছাত্রীদের তার কক্ষে কখনও ফাস্টফুডের দোকানে নিয়ে গল্প করতে পছন্দ করেন।


যেভাবে লালসার শিকার:

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, শ্বশুরের কাছ থেকে উপহার পাওয়া ফ্ল্যাটে ছলে-বলে-কৌশলে শিক্ষার্থীদের ঘৃণিত এ কাজে বাধ্য করে মাহফুজুর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবার নিয়ে হলি ফ্যামিল রেড ক্রিসেন্ট এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন মাহফুজ। আরেকটি ফ্ল্যাট রাজধানীর পান্থপথ আবাসিক এলাকায়। প্যরাডাইস সুইটসের পাশে শ্বশুরের কাছ থেকে উপহার পাওয়া ওই ফ্ল্যাটে চলত ব্ল্যাকমেইল করে আনা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফূর্তি।

মাহফুজের ব্ল্যাকমেইল করার পদ্ধতি শুনেও যে কেউ আঁতকে উঠবে।

ব্ল্যাকমেইলের পদ্ধতি সম্পর্কে ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, ফ্ল্যাটে ডেকে কৌশলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে তিনি (শিক্ষক) তার অফিসিয়াল নম্বরে আজেবাজে ম্যাসেজ পাঠিয়ে রাখতেন, যা দিয়ে পরবর্তীতে তাদের ফাঁদে ফেলতেন। শিক্ষার্থীদের মোবাইলে নিজের ন্যুড পিক পাঠানো ছিল ওই শিক্ষকের কাছে অতি সহজ একটা ব্যাপার।

Minhaz
Minhaz

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পড়া বোঝানোর নামে শিক্ষার্থীদের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে শারীরিক ভোগ করতেন। দ্বিমত করলে শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়া হত। ফলাফল সেমিস্টার ড্রপ আউট।

ভুক্তভোগীরা জানান, বাসায় ফোন দিয়ে বলতেন, আপনার মেয়ে তো পড়াশোনা কিছু পারে না। পরীক্ষায় পাশও করতে পারবে না। খাখামা টাকা-পয়সা নষ্ট করছেন। দেখি ছেলেদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়।

স্বাভাবিকভাবেই এ কথা শুনে শিক্ষকের সহযোহিতা চাইতেন অভিভাবক। তখন তিনি (শিক্ষক) বলতেন, ক্লাসের পরে আমার ফ্ল্যাটে আসতে বলবেন। আমি পড়া বুঝিয়ে দেব। পরিবারগুলোকে এমনভাবে ম্যানেজ করতেন যেন শিক্ষার্থী ওই ফ্ল্যাটে যেতে না চাইলেও তাকে জোর করে পাঠানো হয়।

এভাবে পরিবারকে ম্যানেজ করে শিক্ষার্থীকে নিয়ে আসতেন তার ফ্ল্যাটে!

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts