আমেরিকার ভিসা চান রিয়াজ!

Riaz want amarican visa
Share Button

বৈচিত্র্যময় চরিত্রে রিয়াজের সাবলীল অভিনয় মুগ্ধ করেছে বারবার দেশের চলচ্চিত্র-নাটকপ্রেমী দর্শকদের। আজকাল আর চলচ্চিত্রে কাজ না করলেও ছোট পর্দাতেই নিয়মিত এক সময়ের এই হার্টথ্রুব। আসন্ন ঈদকে ঘিরে দারুণ ব্যস্ততা তার।

সম্প্রতি কাজ করলেন ঈদের একটি নাটকে। এর নাম ‘হ্যালো মিস্টার স্যাম’। এই নাটকে রিয়াজ অভিনয় করেছেন আমেরিকার স্বপ্নের বিভোর এক যুবকের চরিত্রে। যেখানে সামছু নামের চরিত্রটি নিজেকে একজন আমেরিকান ভাবতে খুব বেশি আগ্রহী এবং সেজন্য তিনি নিজের নাম বদলে সামছু থেকে স্যাম করে নিয়েছেন।

হিমু আকরামের রচনা ও পরিচালনায় নাটকটিতে আরো বেশ কিছু চরিত্রে দেখা যাবে প্রিয়া আমান, সোহেল খান, রিফাত চৌধুরী, রুমি, আল আমিনকে।

নাটকের গল্পে দেখা যাবে- মোহাম্মদ সামছু অতিমাত্রায় ভদ্রলোক। ম্যাচের সবাই তাকে শীতল রক্তের স্বপ্নচারী মানুষ হিসেবেই চেনে। সকাল বিকেল সন্ধ্যা রাত সামছুর চারপাশে শুধু একটা স্বপ্নই ঘুরপাক খায়। সেটা হলো আমেরিকা। সামছু নিজেকে একজন আমেরিকান ভাবতেই পছন্দ করে।

তাইতো ম্যাসের মালিক শরাফত, রুমমেট কচি কিংবা মোড়ের পান-বিড়ির দোকানদার হান্নান যখন তাকে সামছু ভাই বলে ডাকে সে তখন রেগে যায়। সামছু চায় সবাই তাকে ‘স্যাম’ বলে ডাকুক। স্যাম শুধু আমেরিকানদের নামই হয়!

মাস শেষে ঘর ভাড়া আর বাকির খাতার হিসাব মিলাতে না পারলেও সামছুর আমেরিকা রোগ দিন দিন বাড়তেই থাকে। তারপর কোনো এক বিকেলে সত্যি সত্যি পরিচয় হয় দুই আমেরিকানের সঙ্গে। কুকুর নিয়ে পার্কে ঘুরতে আসা বাবা পিটার আর মেয়ে এলিনকে দেখে খুশিতে আত্মহারা সামছু। যেকোনো উপায়ে হোক সামছু চায় এদের মন জয় করতে। আর মন জয় করার মাধ্যম হয় এলিনের কুকুর।

মোহাম্মদ সামছু রোজ বিকেলে পার্কে এসে বসে থাকে পিটার আর এলিনের জন্য। এলিনের কুকুরকে আদর করে ‘নাইস ডগ’ বলা তার প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে দাঁড়ায়। আর এভাবেই সুন্দর সম্পর্ক হয়ে যায় সামছু, পিটার আর এলিনের।

সুযোগ বুঝে কোনো একদিন এলিনকে বলে দেয় তার দুটি প্রিয় জিনিসের কথা, স্বপ্নের কথা, চাওয়ার কথা- আমেরিকান ভিসা অথবা এ্যালসেসিয়ান কুকুর। এলিন হাঁসে, এতো ছোট একটা চাওয়ার কথা শুনে। দেবার প্রতিশ্রুতিও দেয়। সেই সঙ্গে দেয় নেবার দিন, তারিখ ও সময়। মোহাম্মদ সামছুর আমেরিকার স্বপ্ন পূরণ হবার আর বুঝি কোন বাধাই থাকে না।

অতঃপর কোনো এক সন্ধ্যায় মোহাম্মদ সামছু এলিনের নিমন্ত্রণে বন্ধুর ধার করা জামা প্যান্ট পরে হাজির হয়। একটা সন্ধ্যা পার করে এলিনের সঙ্গে গল্প করে। আর অপেক্ষা করতে থাকে, কখন তার হাতে দেবে স্বপ্নের আমেরিকা যাবার কাগজপত্র, ভিসা।

সন্ধ্যাটা দীর্ঘ হয়। এলিনের গল্প বাড়ে। বাড়ে রাত। আর বাড়ে সামছুর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বুকে পুষে চোখে জল নিয়ে মোহাম্মদ সামছু হাঁটতে থাকে ফাঁকা রাস্তায়। ল্যাম্পপোস্টের নিচে। আমেরিকার কাগজপত্র হাতে নিয়ে নয়, এলিনের দেয়া এ্যালসেসিয়ান কুকুরের শিকল হাতে!

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts