ঋতাভরী চক্রবর্তী কী করে এত টাকা আয় করেন?

ঋতাভরী চক্রবর্তী কী করে এত টাকা আয় করেন?
Share Button

কালকির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ এল কীভাবে?

আমার ট্রাভেল লাইভ ভিডিওগুলো নিয়ে কথা বলতে যখন সানফ্রানসিস্কোর ফেসবুক হেডকোয়ার্টারে গিয়েছিলাম, সেই সময় সানি লিওনির একটা সাক্ষাৎকার নিয়ে খুব হইচই হচ্ছিল। তখন ফেসবুকের ইন্ডিয়া টিমের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছিল, এই ধরনের একটা শর্ট ফিল্ম নিয়ে। আসলে সচেতনতা নিয়ে ভিডিওগুলো আমরা কেউ-ই দেখতে তেমন পছন্দ করি না। তাই ঠিক করি, একটা শর্ট ফিল্মের মাধ্যমে কিছু কথা বলতে পারলে ভাল হয়। ছবিতে শুধু দু’টোই চরিত্র, একজন সাংবাদিক আর একজন নায়িকা। নায়িকার চরিত্রটার জন্য কালকি বা রাধিকার (আপ্টে) কথা মাথায় ছিল আমাদের। কালকিকে কনসেপ্ট’টা বলায় ও রাজি হয়ে যায়।

 

আপনি নিজে অভিনেত্রী। আপনাকেও ইন্টারনেটে অনেক রকম মন্তব্য সহ্য করতে হয়। সেই ভাবনা থেকেই কি ছবিটা করা?

একেবারেই! ছবিতে আমি একজন সাংবাদিক। যেদিন এক অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকার নিতে যেতে হবে, সেদিনই সেই অভিনেত্রীর একটা ছবির ক্লিপ ভাইরাল হয়ে যায়। তাই প্রশ্নপত্র পাল্টে তার বস্‌ নতুন প্রশ্ন পাঠায়। গোটা সাক্ষাৎকারটা নিয়ে ছবির গল্প। তাতে নানা রকম আলোচনা উঠে আসে। তারই এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনলাইন হ্যারাসমেন্ট। আমাদের অভ্যেসই হল, কেউ কোনও আপত্তিকর কমেন্ট করলে সেগুলো এড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু তাতে আখেরে লাভ হয় না কিছুই।

 

কোনও বড় হাউসের সাহায্য ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন। সেটা কতটা কঠিন?

খুবই! যখন টেলিভিশন ছেড়ে বড় পরদায় কাজ করতে এসেছিলাম, অনেক কিছুই বুঝতে পারতাম না। তারপর বুঝলাম ফিল্মের জগৎটা টেলিভিশনের চেয়ে অনেকটা আলাদা। টিভি’তে অত পি আর করার প্রয়োজন পড়ে না। কোনও অভিনেত্রীকে দর্শকের পছন্দ না হলে সেই সিরিয়াল বন্ধই হয়ে যাবে। তাই ওই জগৎটা অনেক বেশি ফেয়ার! সিনেমায় পি আর লাগে ৮০ শতাংশ। ট্যালেন্ট আছে কি নেই, সেটা পরের কথা। এমন অনেকে আছে যাদের কেউ তেমন পছন্দ করে না, তা-ও নাকি তারা হিরো। কারণ তাদের জন্যে বাজারটা তৈরি করে দেওয়া হয়। তার পিছনের কারণগুলো পুরোপুরি বুঝতে আমার এখনও অনেক সময় লাগবে।

 

এখন তাহলে নিজের পি আর নিজেই করছেন?
প্রথম যে তিনটে ছবিতে কাজ করি সেগুলো মুক্তি পায়নি। তখন বুঝলাম একটা ছবি তৈরি করা যতটা সহজ, সেটাকে মুক্তি পাওয়ানো ততটাই কঠিন। যখন ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ হতো, তখন সন্দীপ রায় আমার বাবাকে ডেকে বলেছিলেন, তোমার ছোট মেয়ে দারুণ কাজ করছে। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে রোজ আমার সিরিয়াল চলত। এগুলো যে ভাঙিয়ে খাওয়া যায়, তখন আমার মাথাতেই ছিল না। এখন বুঝেছি নিজের ঢাক নিজেকে পেটাতেই হবে। এই ইন্ডাস্ট্রিতে একটা শুগারড্যাডি থাকা খুব প্রয়োজন। কোনও পরিচালক, প্রযোজক বা ধনী ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট। সে বয়ফ্রেন্ড না হয়ে তোমার যে কেউ হতে পারে। কিন্তু আমি যেভাবে বড় হয়েছি, সেখানে শুগারড্যাডির সাহায্যে কিছু করলে আয়নায় নিজের মুখ দেখতে পারব না। তাই ঠিক করেছি, আই হ্যাভ টু বি মাই ওন শুগারড্যাডি। আমি কিন্তু বলছি না, ইন্ডাস্ট্রিতে সকলে খারাপ। প্রয়োজনে আমি অনেকের কাছেই গিয়েছি মেন্টরিংয়ের জন্য। তাঁরা আমায় যথেষ্ট সাহায্যও করেছেন।

কিন্তু এখনও তো খুব বেছেই কাজ করছেন?
তিনটে ছবি মুক্তি না পাওয়ায় খুব কষ্ট হয়েছিল। এখনও অনেক প্রজেক্ট আসে। কিন্তু যদি বুঝি সেগুলো না-ও মুক্তি পেতে পারে, নিই না। তাছাড়া আমি এমন ধরনের কাজ করতে চাই, যেগুলো নিজে দেখে বড় হয়েছি। শুধু বাংলায় কেন, হিন্দি-ইংরেজি সবই করতে চাই। এ বছরের শুরুতেই যেমন আয়ুষ্মানের (খুরানা) সঙ্গে ‘ওরে মন’ ভিডিওয় কাজ করলাম। ওটা এত সফল হয়েছে, যে একই টিম নিয়ে ফের কাজ করছি আমরা। এবারও আমাদের টিমে অনুপম রায় থাকছে। এপ্রিলে একটা ইংরেজি ছবিও করছি। আমি তো চাই, নানা রকম প্রজেক্টে কাজ করতে। কিন্তু যাদের এক সময় কাছের বন্ধু ভেবেছি, তারাও যখন শয্যাসঙ্গী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, খুব আহত হয়েছি। অনেকেই বলে আমার মধ্যে বাণিজ্যিক আর প্যারালাল ছবির নায়িকা হওয়ার গুণ রয়েছে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যদি বার্টার সিস্টেম করতে হয়, তাহলে নিজেকে কী জবাব দেব!

ইন্ডাস্ট্রির লোকে বলে, কোনও এক ধনী বয়ফ্রেন্ডের টাকায় আপনি দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ান। 
যারা এ সব কথা বলে, তাদের মুখে ঘি-শক্কর! যেন এমন কোনও বয়ফ্রেন্ড সত্যিই পেয়ে যাই, যে আমায় ভালবাসবে, আবার এত জায়গায় ঘুরতেও নিয়ে যাবে (হাসি…)! আসলে ঋতাভরী চক্রবর্তী কী করে টাকা কামায়, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে। তারা জানে না, আমি আমার মায়ের সঙ্গে কত বিহাইন্ড দ্য ক্যামেরা কাজ করি। অনেক কর্পোরেট ফিল্ম বানাই, তথ্যচিত্র তৈরি করি। সেগুলো থেকে আমার ভালই রোজগার হয়। তাছাড়াও আমার জীবনের প্রায়োরিটিগুলো আলাদা। একটা পে-চেক পেলে আমি বড় গাড়ি না কিনে বিদেশে যাই। বেড়াতে খুব ভালবাসি। ইট কিপ্‌স মি রুটেড।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts