পাওলি দাম ঢাকায় শুটিং শেষে কলকাতায়

Paoli-Dam

রোববার বিকালে এফডিসির উৎপাদক ব্যবস্থাপক সমিতির ভেতরে সেট বানানো হাসপাতালের একটি বিছানায় শুয়ে আছেন ভারতের আলোচিত অভিনেত্রী পাওলি দাম। তবে বিশ্রামের জন্য নয়। এখানে তিনি হাসপাতালের একটি দৃশ্যে অভিনয় করছিলেন।

হাসিবুর রেজা কল্লোল পরিচালিত ‘সত্তা’ ছবির কাজে ২৪শে ফেব্রুয়ারি আবারও ঢাকায় আসেন পাওলি। শুটিং নিয়ে রাত-দিন ব্যস্ততার মাঝে রোববার বিকাল তিনটার দিকে এফডিসিতে মানবজমিনকে সময় দেন তিনি। তন্বী এ অভিনেত্রীকে দেখার জন্য সে সময় এফডিসির ভেতরে বেশ ভিড় লক্ষ করা যায়। বাংলার চিরচেনা হাসিখুশি এ মেয়েটির পৈতৃক ভিটা ফরিদপুরে।

তাই বাংলাদেশকে আলাদা ভাবেন না পাওলি। ‘সত্তা’ ছবিতে শিখা নামে একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। কথার শুরুতেই বললেন, বাংলাদেশকে একদমই আলাদা কোনো দেশ ভাবি না। আমার একুশে ফেব্রুয়ারিটা এবার এখানে করার ইচ্ছে ছিল।

কিন্তু শুটিংয়ের তারিখ পেছানোর কারণে তা হয়নি। তারপরও এসেই শুটিংয়ের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়েছিলাম। বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান বাজার সম্পর্কে পাওলি দাম বলেন, বাংলা ছবির জন্য যে উন্নত বাজার দরকার সেটার জন্য কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রথমত যতটুকু জেনেছি, এখানের থিয়েটারগুলোর উন্নত পরিবেশ দরকার।

যার একটু অভাব রয়েছে। আর অনেক হলও কমেছে। তবে হল কমার ঘটনাটা শুধু বাংলাদেশে না, কলকাতায়ও এ সমস্যা চলছে। অন্য রাজ্যগুলোতে একটি মারাঠি ছবি কমপক্ষে ৫০০টি থিয়েটারে মুক্তি পায়।

আর সেখানে বাংলা ছবি সেভাবে জায়গা পায় না। ব্যবসার জন্য ভালো ছবির সংখ্যার পাশাপাশি ভালো সিনেমা হল বা থিয়েটারও প্রযোজন। যাতে একসঙ্গে আমরা বাংলা ছবিগুলো মুক্তি দিতে পারি। এখন তো শুক্র, শনি, রবি কি ব্যবসা হলো সেটার ওপর বাংলা ছবির বক্স অফিস নির্ভর করে।

বাংলা ছবির দর্শক কি সত্যিই কমেছে বলে মনে করেন? উত্তরে পাওলির সোজা উত্তর, না। বাংলা ছবির দর্শক কমেছে এ কথাটি ঠিক নয়। দর্শক এখনও ভালো ছবি দেখতে চায়। তবে কিছু ছবি চলছে, কিছু ছবি চলছে না।

তবে কি কারণে কিছু ছবি চলছে না সে কারণগুলো খুঁজে আমাদেরই বের করতে হবে। কারণ সবকিছুরই সমাধান রয়েছে। বাংলাদেশে অনেক ভালো গল্পের ছবি হয়েছে। ‘সত্তা’ ছবির জন্যই পাওলির ঢাকায় আসা।

এ নিয়ে পাওলি বলেন, ‘সত্তা’ ছবির স্ক্রিপ্টটা অনেক ভালো। এখানে শিখা (পাওলি) একজন সাধারণ ঘরের পোড় খাওয়া মেয়ে। তাকে নিয়ে নানা ঘটনা রয়েছে এ ছবিতে। এ ছবির পরিচালক কল্লোল, ছবির সংগীত পরিচালক, হিরো শাকিব খান সবকিছু মিলে এটা একটা সুন্দর টিমের ছবি।

এটা একটা ভালো মানের কাজ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সব সময় ফিমেল ওরিয়েন্টেড চরিত্র করতে আমার বেশি ভালো লাগে। ‘সত্তা’য় যে চরিত্রে আমাকে দেখবেন দর্শক, সেটা হয়তো অনেকদিন দর্শকের মনে থাকবে।

এর মধ্যে পাওলি দাম কলকাতায় বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ‘টোপ’ নামে একটি ছবিতে কাজ করেছেন। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছোটগল্প অবলম্বনে এ ছবিটি নির্মাণ হয়েছে। এ ছাড়া পাওলি সৃজিতের ‘জুলফিকার’ ও রাজা সেনের ‘মায়ামৃদঙ্গ’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘সত্তা’ ছবির আগে ‘মনের মানুষ’ ছবির কাজের সময় যখন পাওলি বাংলাদেশে আসেন তখনও শুটিংয়ের তাড়ায় অনেক ইচ্ছা পূরণ করতে পারিনি। এবারও তিনি বেশ কাজের চাপে রয়েছেন।

বললেন, এখানের রতন (‘সত্তা’ ছবির প্রোডাকশন বয়) আমাকে অনেক সুস্বাদু খাবার এনে দিয়েছে। কাজের চাপে থাকলেও বাংলাদেশের খাবার আমার বেশ পছন্দের। বিশেষ করে ইলিশ মাছ, শুঁটকি ভর্তা আমার বেশ পছন্দের।

গতকাল ঢাকা ত্যাগ করেছেন পাওলি। পহেলা বৈশাখে এ ছবির গান ও শেষভাগের কিছু কাজের জন্য আবারও ঢাকায় আসবেন তিনি। কলকাতায় রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করে হঠাৎ করেই চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। তাই সবশেষ নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে মানবজমিনকে বলেন, অভিনয় নিয়ে আমার কোনো কিছু পরিকল্পনা ছিল না। আর পরিকল্পনা করে কাজ করতেও চাই না।

যতদিন পারি ভালো কিছু চরিত্রের ছবি দর্শকদের উপহার দিয়ে
যেতে চাই। এদিকে ৬ দিন শহীদ মিনার, এফডিসি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও গুলশান লেডিস পার্কে শুটিং শেষে আজ কলকাতায় ফিরেছেন পাওলি।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment