ফিল্ম সিটি নির্মিত হয়নি ৩৫ বছরেও

akbar-film-city
Share Button

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের কবিরপুরে নির্মিত হবে ফিল্ম সিটি। যেখানে ফুটে উঠবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পুরো চালচিত্র। এতে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দেশের নানাপ্রান্তের লোকেশনে চিত্রায়নের প্রয়োজন পড়বে না। ফলে বাঁচবে সময় ও নির্মাণ ব্যয়।

নদী-নালা, পাহাড়, গ্রাম-শহর, ঐতিহাসিক স্থান ও ইতিহাসের স্মারকের বৈচিত্র্যময় রেপ্লিকাসহ দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই থাকার কথা রয়েছে সেখানে। একজন নির্মাতা তার চিন্তার সামঞ্জস্য খুঁজে পাবেন কবিরপুরের ছায়াঘেরা পাখির কলকাকলিমুখর এই ফিল্ম সিটিতে।

প্রশ্ন হলো— কবে নির্মিত হবে এই স্বপ্নের ফিল্ম সিটি? সেই ১৯৮১ সালে সরকারি অর্থায়নে ১০৫ একর জমি কেনা হয়, একটি আন্তর্জাতিক মানের ফিল্ম সিটি তৈরির জন্য। কোনো প্রকার কাজে হাত না দিয়ে কেবল নাম পরিবর্তন করেই কেটে গেছে সাড়ে তিন দশক। প্রথমে জিয়া ফিল্ম সিটি, এরপর বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি, এরপর আবার জিয়া চলচ্চিত্র নগরী। বর্তমানে এর নাম ‘বাংলাদেশ ফিল্ম সিটি’। এরপর হয়তো অন্য নাম হবে, হয়তো এভাবেই পড়ে থাকবে… এমন আশা-নিরাশার খেলা দেখে এমন ভাবনাই এখন চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষের।৩

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে এটিতে রয়েছে একটি নামফলক, কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক উপায়ে বেড়ে ওঠা বৃক্ষ, একটি হ্রদ ও বিশাল খালি জায়গা। বার বার স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছে বার বার ফিরে আসা এই ফিল্ম সিটি কি আদৌ হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনে যাওয়া। এ প্রসঙ্গে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে আশার কথা জানান প্রকল্পটির পরিচালক (এফডিসির প্রশাসন ও প্রকৌশল পরিচালক) মোহাম্মদ আজম।

তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি পর্যায়ে আমরা এ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করব। যার প্রথম পর্যায়ের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছি। এ পর্যায়ের মধ্যে মূল কাজ হবে পুরো প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি। সেই সঙ্গে প্রকল্পের পার্শ্ববর্তী এলাকার সড়ক নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

প্রকল্পের ইতিহাস জানান দেয়, এফডিসির বহির্দৃশ্য চিত্রায়নের জন্য ঢাকার অদূরে গাজীপুরের কবিরপুর আন্দারমানিক এলাকায় আনসার একাডেমি-সংলগ্ন ১০৫ একর জমির ওপর এ ফিল্ম সিটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আশির দশকের শুরুর দিকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে তথ্য মন্ত্রণালয় সাভার থানার অধিভুক্ত কবিরপুরে রেডিও ট্রান্সমিশন ও এরিয়াল কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে এফডিসিকে ১০৫ দশমিক ১২ একর বা ৩১৭ দশমিক ৫২ বিঘা জমি বরাদ্দ দেয়। জমি বরাদ্দ পাওয়ার পর এফডিসির পক্ষ থেকে ‘জিয়া ফিল্ম সিটি’ নামে দ্রুত কাজ শুরুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তীকালে নানা অজুহাতে বার বার প্রকল্পটির কাজ পিছিয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ‘বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি’ নাম দিয়ে পুনরায় এর কাজ শুরু করে। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সে প্রচেষ্টাও থেমে যায়। সর্বশেষ ২০০২ সালের ২৮ জুন এফডিসির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অভিনেতা ওয়াসিমুল বারী রাজীব ‘জিয়া চলচ্চিত্র নগরী’ নামে প্রকল্পটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। সে সময় কিছু গাছ ও ১৫ কক্ষের একটি আবাসন ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে এ প্রকল্পের নতুন নামকরণ করে ‘বাংলাদেশ ফিল্ম সিটি’। বর্তমানে এ নামেই প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে।

মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজে শুরুতেই সীমানা প্রাচীর তৈরি করা হবে। সেই সঙ্গে শ্যুটিংয়ের জন্য চারটি গ্রামের বাড়ি নির্মাণ করা হবে। উচ্চবিত্ত থেকে দরিদ্র পরিবারের মতো করে বাড়িগুলো তৈরি হবে। এ ছাড়াও গ্রাম্য বাজার, শ্যুটিং রেস্টুরেন্ট, ৪টি মেকআপ রুম, লেক ও পুকুর সৌন্দর্যকরণ, বনায়ন, শ্যুটিং ফ্লোরসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ করা হবে। সেই সঙ্গে পুরো প্রকল্প এলাকায় আধুনিক আলোর ব্যবস্থা থাকবে। যার ফলে নিরাপত্তা বাড়বে। সেখানে শ্যুটিং টিমের জন্য এক শ’ আসনবিশিষ্ট চারটি ডরমিটরি তৈরি করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি নিয়ে বেশ বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশের একটি রেপ্লিকা তৈরি অন্যতম। শ্যুটিংয়ের জন্য দেশের দর্শনীয় সব স্থানের রেপ্লিকা তৈরি করা হবে। এতে চলচ্চিত্র নির্মাণের খরচও কমে আসবে। এর পাশাপাশি একটি চলচ্চিত্র জাদুঘরও তৈরি করা হবে।’

প্রায় দুই বছর মেয়াদে বাংলাদেশে ফিল্ম সিটির কাজের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এখন চলছে প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যানের কাজ। গত ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে একনেক সভায় বাংলাদেশ ফিল্ম সিটির জন্য ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদিত হয়। এর ফলেই নড়েচড়ে বসে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment