রহস্যময়ী নায়িকা পপি

রহস্যময়ী পপি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের হিট এবং হট নায়িকাদের অন্যতম হচ্ছেন চিত্রনায়িকা পপি। তিনবার জাতীয় পুরস্কার পাওয়া এ নায়িকা ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই রহস্যের জালে আবৃত।

রোজ রাতেই তারারা ফিরে আসে আকাশে। কোনো রাতে ধরা দেয় মানুষের দৃষ্টিসীমায় কখনও আবার অদৃশ্য থেকেই মিলিয়ে যায় ভোরের আলোয়। তারারা বুঝি এমনই। দেখা-অদেখার রহস্যের মধ্যে থাকতেই যেন তাদের ভালোলাগা।

 

সেটি আকাশের তারার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য তেমনই মাটির তারাদের ক্ষেত্রেও। যদিও মাটির সব তারাদের ক্ষেত্রেই এ সূত্র প্রযোজ্য নয়। কিছু তারকা আকাশের তারাদের মতোই যেন আড়ালে থেকে মিটিমিটি জ্বলতে ভালোবাসেন। সেসব তারার অন্যতম হচ্ছেন চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি।

 

ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির স্বর্ণযুগের শেষ মুহূর্তের তারকাদের মধ্যে যে ক’জন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নাম উঠে আসে তাদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত নায়িকা তিনি। ১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের ‘কুলি’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। প্রথম ছবি দিয়েই বাজিমাত করেন পপি।

 

সাবলীল অভিনয় আর নজরকাড়া সৌন্দর্য দিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে প্রথম থেকেই জায়গা করে নেন। তারকা জীবনে কিছু ঘটন-অঘটন থাকলেও আর কখনও পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর হিট ছবি উপহার দিয়েছেন ঢালিউডের এ লাভার গার্ল।

 

তার অভিনীত হিট ছবির তালিকায় রয়েছে মহম্মদ হান্নানের ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’, কমল সরকারের ‘ক্ষেপা বাসু’, বাবুল রেজার ‘ওদের ধর’, কালাম কায়সারের ‘কারাগার’, মাসুদ পারভেজ রুবেলের ‘বিষাক্ত চোখ’, বাদল খন্দকারের ‘প্রেম করেছি বেশ করেছি’ ও ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, নারগিস আক্তারের ‘মেঘের কোলে রোদ’, চন্দন চৌধুরীর ‘কি যাদু করিলা’, ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের ‘গঙ্গাযাত্রা’, জি সরকারের ‘গার্মেন্টস কন্যা’ এবং আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘দুই বিয়াইয়ের কীর্তি’ উল্লেখযোগ্য। ছবির সংখ্যা খুব বেশি না হলেও এর মধ্য থেকেই সেরা অভিনেত্রী হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

 

কিছুকাল আগেও যেন পপি মানেই ছিল সুপারহিট-বাম্পার হিট ছবি। তার রেশ ধরেই চলচ্চিত্র বোদ্ধারা বলে থাকেন, বর্তমানে চলচ্চিত্রে ব্যস্ততা না থাকলেও পপি তার প্রজন্মের সব নায়িকাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।

 

কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বাংলা চলচ্চিত্রে ববিতা-শাবানার পর পপি ছাড়া আর কোনো অভিনেত্রী এখন পর্যন্ত তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘরে নিতে পারেনি। কিন্তু দর্শকদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কী এক অদৃশ্য কারণে ক্যারিয়ারের মাঝপথেই আড়ালে চলে যান পপি।

 

বেশ কিছুদিন কাজে তো নয়ই, মিডিয়ার সামনেও দেখা যায়নি এ তারকাকে। এ প্রসঙ্গে পপির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নানা কারণেই ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরে পড়েছি। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এখন ‘ইন্ডাস্ট্রিতে পেশাদারিত্বের বড়ই অভাব। তাই আগের মতো কাজ করতে উৎসাহ পাই না। সিনেমা শিল্পকে ভালোবাসি বলে এখনও ইন্ডাস্ট্রিতে নিভু নিভু প্রদীপের মতো কাজ করে যাচ্ছি।

 

তবে কাজের ক্ষেত্রে এখনও মানের বিষয়ে কোনো আপস নেই আমার মধ্যে।’ সম্প্রতি এ নায়িকাকে ছবিতে কম দেখা গেলেও বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে নির্মিত নাটকে নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে। নিয়মিত কাজ করছেন বিজ্ঞাপনেও।

 

কিছুদিন আগেও প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানির বিজ্ঞাপনে কাজ শেষ করার পরই রাজের নির্মিত আরও একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি নাজমুল হাসানের ‘দুই নয়ন’ ও নতুন আরও একটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এ তারকা।

 

তাই পপিভক্তরা ফের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তাদের রহস্যময়ী নায়িকার আবার পর্দায় ফিরছেন বলে। চলচ্চিত্রবোদ্ধারাও চাইছেন ফের স্বমহিমায় ফিরে আসুক পর্দা কাঁপানো জনপ্রিয় এ নায়িকা। আর অবসান হোক পপির আড়ালে থাকা রহস্যের।

 

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment