শ্যুটিং ফ্লোরে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপরে কীভাবে নজর রাখা হয়?

শ্যুটিং ফ্লোরে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপরে কীভাবে নজর রাখা হয়?
Share Button

সব পেশাতেই কিছু না কিছু সমস্যা থাকে। অভিনয় যখন শুধু প্যাশন নয়, পেশাও হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই পেশার কিছু খারাপ দিক তো থাকবেই। চট করে যে খারাপ দিকটা মাথায় আসে, সেটা হল ‘কাস্টিং কাউচ’। পরিচালক-প্রযোজক, সহ-পরিচালক বা এগজিকিউটিভ প্রোডিউসারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার চাপ থাকে অভিনেত্রীদের উপরে, কখনও কখনও অভিনেতাদের উপরেও। কিন্তু তার চেয়েও খারাপ একটি বিষয় হল ‘স্পাইং’।

সিনেমার শ্যুটিং হোক বা টেলিভিশনের কোনও অনুষ্ঠানের শ্যুটিং, সব সময় চোখে চোখে রাখা হয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। আগে একভাবেই এই স্পাইং করা হতো। ইউনিটের মধ্যেই বিশ্বস্ত কয়েকজন লোককে ফিট করে রাখতেন প্রযোজক। শ্যুটিংয়ের ফাঁকে কে কোথায় কার সঙ্গে গল্প করছে, কী গল্প করছে, সে সব খবর এনে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল সেই স্পাইদের।

 

তাঁরা যে এখন আর নেই তা নয়। স্পটবয় থেকে সহ-পরিচালক, এই গুরুদায়িত্বটি যে কোনও ব্যক্তির উপরেই দিতে পারেন প্রযোজক। আবার অনেক সময়ে প্রযোজকের অত্যন্ত কাছের কোনও প্রবীণ বা নবীন অভিনেতাও স্পাইংয়ের কাজটি করে থাকেন। কিন্তু স্মার্টফোন রেভলিউশনের পরে স্পাইং করা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। মেক-আপ রুমে রেকর্ডার অ্যাপ অন করে দিয়ে, ফোনটির স্ক্রিন লক করে রেখে দেওয়া হয় এমন একটি কোণে, যেখানে থাকলে মোটামুটিভাবে ঘরে যা যা কথাবার্তা হবে তা ধরা পড়ে।

শট দিয়ে এসে মেক-আপ রুমে ঢুকে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ফোনটি দেখে হয়তো ভাবেন, কেউ ফোনটি ফেলে গিয়েছে বা রেখে গিয়েছে। এর পর তাঁরা যা যা কথাবার্তা বলেন, নিজেদের মধ্যে সবটাই রেকর্ড হয় অ্যাপে। কাজের ফাঁকে গল্প মানে সেখানে কাজ নিয়ে কিছু কথা আসবেই খুব স্বাভাবিক। সেই কথার মধ্যে প্রযোজকের বিরুদ্ধে কোনও কথা হচ্ছে কি না, সেটাই পরে শোনা হয়। টেলিভিশনের শ্যুটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজক সংস্থার উদ্বেগ থাকে যে, কলাকুশলীরা তাঁদের বিরুদ্ধে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে কিছু বলছেন কি না।

তার চেয়েও বড় একটা বিপদ রয়েছে এই স্পাইংয়ের। অনেক সময়েই ব্যক্তিগত অনেক কথা আলোচনা হয় মেকআপ রুমে। সেই সব তথ্য রেকর্ড হয়ে যায় স্পাইদের রেকর্ডারে। প্রযোজক সংস্থা অনেক সময়েই সেগুলিকে কাজে লাগায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।

বলাই বাহুল্য, এমন কাজ একান্ত ভাবে বেআইনি। কিন্তু এমন ঘটনা যে দেশে-বিদেশে অনর্গল হয়ে চলেছে, তা সিনে-ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সংযুক্ত ব্যক্তিমাত্রেই জানেন। একে প্রমাণ করে দুরুহ। অথচ এর হাত থেকে নিস্তার নেই অভিনেতা-কলাকুশলীদের।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts