সুলতান সুলেমান সিরিয়ালের শাহজাদা মুস্তফা আসল কে?

শাহজাদা মুস্তফা
Share Button

মেহমেত গুনসুর। পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চির আকর্ষণীয় এক তার্কিশ যুবকের নাম। তুর্কিস্থানের জনপ্রিয় টিভি তারকা ও চিত্রনায়ক তিনি। শুধু তুর্কিতেই নয়, জনপ্রিয়তা তার বিশ্ব জুড়েই। বাংলাদেশের টিভি দর্শকরাও প্রতিনিয়ত দেখছেন তাকে। এ দেশের টিভি দর্শকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় তিনি। তবে এ নামে নয়। ভিন্ন আরেক নামে। যে নাম বলার সঙ্গে সঙ্গেই সবাই একবাক্যে বলে উঠবেন আরে একে তো দেখেছি। উঠতি অনেক তরুণীদের কাছে রীতিমতো ক্রাশ তিনি।

অটোম্যান সাম্রাজ্যের ইতিহাসকে উপজিব্য করে তৈরি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পাওয়া সিরিয়াল ‘সুলতান সুলেমান’-এ পরাক্রমশালী সুলতানের বড় পুত্র শাহজাদা মুস্তফা চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেহমেত গুনসুর।

বিশ্বজুড়ে সিরিয়ালটির জনপ্রিয়তার কারণে নিজের নাম ছাঁপিয়ে সুলতান পুত্র শাহজাদা নামেই পরিচিতি তার। সুলতান সুলেমান দিয়ে পরিচিত পেলেও ইস্তাম্বুলে জন্ম নেয়া এ তারকা কিন্তু তুর্কি চলচ্চিত্রের নায়ক। তবে ভাগ্য তাকে চলচ্চিত্রের নায়ক নয় ইতিহাসের নায়ক হিসেবে পরিচিতি করে তুলেছেন বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের কাছে।

১৯৯৯ সালে ‘হামান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চিত্রনায়ক হিসেবে অভিষেক হয় তার। এর ঠিক আগের বছর টিভি পর্দায় পথচলা শুরু। তুরস্কের বাইরেও ইতালিয়ান এবং আমেরিকান বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। তার অভিনীত আলোচিত ছবিগুলোর মধ্যে হচ্ছে ‘অহ সিমদি আসকার’, ‘আনলাত ইস্তাম্বুল’ এবং ‘হামান’। প্রায় পনেরোটির মতো ছবি মুক্তি পেয়েছে তার।

এছাড়াও বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘ইস্তাম্বুল কিরমিজিসি’ নামের একটি ছবি। এ ছবিতে ইউসুফ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। মজার কথা হচ্ছে, মুহতিম উজেরলি বা সুলতান সুলেমান সিরিয়ালটি করার আগে ডজন খানেক টিভি সিরিয়াল করলেও দর্শকদের কাছে খুব একটা পৌঁছাতে পারেননি তিনি। তবুও হাল ছাড়েননি। যার ফল পেয়েছেন মেহমেত। এবং পাচ্ছেন এখনও।

সুলতান সুলেমান তাকে এতটা জনপ্রিয়তার তুঙ্গে তুলেছে যে, নিজের জনপ্রিয়তা নিজেই মাঝে মাঝে ইর্ষা করেন বলে তুরস্কের এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছেন তিনি। সে সাক্ষাৎকারে নিজের শাহজাদা মুস্তফার আড়ালে নিজের আসল নাম হারানোর দুঃখের কথাও জানিয়েছেন।

তবে এমন দুঃখ জীবনে আসাটা সৌভাগ্যের বলেই মনে করেন মেহমেত। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন প্রযোজকও। বেশ কিছু ছবি এবং টিভি প্রোগ্রামের লগ্নি করেছেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ভাগ্য সহায়ক ছিল মেহমেদের। তার অভিনীত প্রথম ছবি ‘হামান’-এর কারণে ১৯৯৮ সালে আংকারা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ‘বেস্ট প্রমিজিং’ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার পান। ২০০৩ সালে আন্টালিয়া গোল্ডেন অরেঞ্জ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা জুড়ি অ্যাওয়ার্ড পায় তার অভিনীত ছবি।

ব্যক্তিগত জীবনে তিন সন্তানের জনক তিনি। ইতালিয়ান ছবি করতে গিয়ে সেখানকার প্রডিউসার ক্যাটেরিনা মংগিওর প্রেমে পড়েন এ তারকা। এরপর তার সঙ্গে প্রেমের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটান। এখন তার সঙ্গেই চলছে সুখের সংসার জীবন। এ তো গেল মেহমেত গুনসুনের ব্যক্তিগত জীবন।

এদিকে আমাদের দেশের দর্শকরা অধীর আগ্রহে বসে আছেন শাহজাদা মুস্তফার পরিণতি দেখার জন্য। অটোম্যান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিমান শাসক সুলতান সোলেমান, হুররাম সুলতান শাহজাদা মোস্তফা ও আরও পাঁচ শাহাজাদার চার জনের করুণ ও শেষ পরিণতি দেখার জন্য। কারণ এর আগে হুররাম সুলতানের অভিযোগমূলক প্ররোচনায় উজিরে আজম ইব্রাহীম পাশাকে অমানবিকভাবে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়। এখন আসছে মুস্তফার পালা। নিজের ক্ষমতার লোভে বলি হয়ে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত শাহজাদা মুস্তফাকেও সুলতান সুলেমান তার বিশ্বস্ত জল্লাদের দ্বারা চোখের সামনে হত্যা করে মুস্তফা যুগের সমাপ্তি ঘটাবেন।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts