ইউনিসেক্স পার্লারে রমরমা মাসাজ ব্যবসা!

বাইরে থেকে দেখলে আর পাঁচটা বিউটি পার্লারের সঙ্গে বিশেষ 
তফাত নেই। 

কিছুটা পুরনো পার্লারের দরজা রঙিন সানমাইকায় ঢাকা। মাঝের চৌকো অংশে ঘসা কাচ। সেই কাচের উপর রঙিন পরদা। শোকেসে প্রসাধন সামগ্রী। অপেক্ষাকৃত নতুন পার্লারে ঘসা কাচ বা পরদা নেই। ভিতরে সারি সারি চেয়ার। চুল, দাড়িকাটা হয় সেখানে। 

তবে মেয়েরা হেয়ারকাট বা আইব্রাও করাতে গেলে নম্রভাবে বিদেয় করা হয়। ধরিয়ে দেওয়া হয় অন্য পার্লারের কার্ড। 
কিন্তু সেখানেই মাসাজ নিতে চাইলে? মধ্য কলকাতার ঝাঁ চকচকে ইউনিসেক্স পার্লারে প্রশ্নটা শুনে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি সুমিষ্ট স্বরে বললেন, ‘‘কওনসা মাসাজ?’’
উত্তর দেওয়া গেল, ‘‘আচ্ছাওয়ালা।’’
এক তরুণের সঙ্গে সাংবাদিককে পাঠানো হল দোতলায়। । দোতলায় তিন-চারটে আট বাই ছ’য়ের মাসাজ রুম। কাঠের পার্টিশন। নীলচে দেওয়ালের ঘরের কোণে বেসিন। প্লাস্টিকের টুলে পাউডার, আয়োডেক্স, স্বচ্ছ শিশিতে সাদা ক্রিম আর টিসু পেপার। অপ্রশস্ত খাটে রাখা তোয়ালে। ছোট্ট একজ়স্ট ফ্যান। 

ছেলেটি জানাল, তিনরকম মাসাজ আছে। ১৫০০, ১৮০০ এবং ২০০০ টাকার। ২০০০ খরচ করলে সবচেয়ে বেশি ‘এনজয়মেন্ট’! মিনিটকয়েকের মধ্যে ঘরে ঢুকলেন টাইট জিন্স আর হাল্কা গোলাপি টিশার্ট। মঙ্গোলয়েড মুখাবয়ব।
তবে খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না মাসাজ। শুরু হয়ে গেল ‘এক্সট্রা সার্ভিসে’র মোহ তৈরির চেষ্টা। 

এক্সট্রা সার্ভিসের প্রয়োজন নেই শুনে রীতিমতো খেপে গেলেন ম্যাসিওর। বুঝিয়ে দিলেন, একস্ট্রা সার্ভিস ‘নিয়মে’র মধ্যে পড়ে! ওই টাকাটাই তাঁর রোজগার। অবশ্য সাংবাদিকের পরিচয় পেয়ে ম্যাসিওর জানালেন, তিনি কথা বলতে রাজি। তবে একস্ট্রা সার্ভিসের দেড় হাজার টাকা দিতেই হবে তাঁকে। কারণ, বিনি পয়সায় কথা বলে সময় তিনি নষ্ট করতে পারবেন না। আর এগজ়স্ট ফ্যানের ঘুলঘুলি দিয়ে ঘরে নজর রাখে বাইরের ছেলেটি। ফলে সাবধান! পরবর্তী কথোপকথনে জানা গেল, কীভাবে এক বাস্কেটবল প্লেয়ার পৌঁছে গিয়েছেন মাসাজ রুমে। 

স্পা বা বড় মাসাজ পার্লারে যে তরুণীরা কাজ করেন, তাঁদের অনেকেই শিক্ষিত মধ্যবিত্ত। নিজেদের পরিষেবা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত বলতেই বেশি পছন্দ করেন তাঁরা। সমাজত্ত্ববিদ প্রশান্ত রায়ের ব্যাখ্যা, ‘‘গ্লোবাল ফ্রেমওয়ার্ক বুঝিয়ে দিচ্ছে, শরীর থেকে ভ্যালু সরিয়ে রাখলে বেচতে অসুবিধা নেই। সমাজের শিক্ষিত শ্রেণি এই ধরনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করে, তাঁদের অধিকার নিয়ে কথা বলে কাজটাকে একধরনের স্বীকৃতিও দিচ্ছেন। ফলে অনেকেই স্বেচ্ছায় এ কাজে নামছেন।’’

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও খবর...