একটি ভুল ফোন কল, তারপর ৮২ বছরের নারীকে বিয়ে!

৮২ বছরের নারীকে বিয়ে

মাত্র একটি ভুল ফোন কল। তারপরই একে অন্যের হৃদয় দেওয়া নেওয়া, প্রেম, অতঃপর বিয়ে। দুজনের মনের মিলেই বিয়ে, কিন্তু সমাজের চোখে তা স্বাভাবিক বিয়ে নয়। কারণ বর ও কনের বয়সের প্রার্থক্য প্রায় ৫৪ বছর। বরের বয়স ২৮ বছর আর কনের বয়স ৮২। কিন্তু বয়সের পার্থক্য এ যুগলের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

ঘটনাটি ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ায়। ২৮ বছরের যুবক সোফিয়ান লোহো ডানডেল ও কনে ৮২ বছরের মার্থা পোতু। প্রথম দিকে সমাজ তাদের বিয়ে মেনে না নিলেও এখন সবাই ভালো চোখেই দেখছেন।

ঘটনা শুরু হয় প্রায় এক বছর আগে। কনে মার্থা পোতু তার এক আত্মীয়কে ফোন করতে গিয়েছিলেন। ভুল করে সেই ফোন চলে যায় সোফিয়ানের কাছে। সোফিয়ান জানিয়ে দেন তিনি ভুল নাম্বারে ফোন করেছেন। কিন্তু সামান্য এ কয়টি কথা যে তার মন পাগল করে দেবে, তা কি কেউ জানত! তারপর দুজনই ফোন রেখে দেন। কিন্তু সোফিয়ানের মন পড়ে থাকেই সেই ফোনকলে। মিষ্টি কণ্ঠের অধিকারী মার্থার নাম্বারটি মনে গেঁথে যায় তার। বার বার মার্থার কণ্ঠ শুনতে ইচ্ছে হয় তার।

সেদিনের পর আবার একদিন ফোন দেন সোফিয়ান। কথা বলেন প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে। এভাবে ধীরে ধীরে একে অপরের সঙ্গে মন দেওয়া নেওয়া চলে। তখনও তারা একে অপরকে সামনাসামনি দেখেননি। প্রতিদিন তারা অনেক কথা বলেছিলেন কিন্তু কোনোদিন বৃদ্ধা মার্থা পোতু সোফিয়ানকে বয়সের ব্যাপারে কিছু বলেনি। সোফিয়ানও তার বয়স জিজ্ঞাসা করেনি। একে অপরকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসে গেছেন।

এভাবে প্রায় এক বছর কাটে। অবশেষে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। মার্থার কথামত তার বাড়িতে একদিন দেখা করতে যায় সোফিয়ান। ঠিকানাতম গিয়ে মার্থার দরজায় কড়া নাড়েন। বাড়িতে মার্থা ছাড়া কেউ থাকে না। তাই তিনিই দরজা খুলে দেন এবং জানান তিনিই মার্থা, তার মোবাইল প্রেমিকা। তাকে দেখে সোফিয়ান চমকে ওঠেন। কারণ তিনি কখনো ভাবতে পারেননি তার প্রেমিকার বয়স ৮২ বছর হবে।

কিন্তু সব জেনেও সোফিয়ানের ভালোবাসা একটুও কমেনি। বরং তাদের ভালোবাসা আরো মজবুত হয়েছে। সোফিয়ান প্রতিজ্ঞা করেন তার ৮২ বছর বয়সী প্রেমিকাকে নিয়েই সারাজীবন সংসার করবেন।

সোফিয়ান বিষয়টি তার পরিবারকে জানান। পরিবার ধারণা করেছিল তাদের ছেলে হয়তো নিজের বয়সী কোনো মেয়েকে ভালোবেসেছে। তাই তারাও বিয়ে দিতে রাজি হয়।

বিয়ের দিন কনের বাড়িতে দিয়ে তারাও জানতে পারে তাদের ছেলে পছন্দ করছে এক দাদীমাকে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি দেখে প্রথমে অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে রাজি হন এবং গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করে।

বর সোফিয়ান বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে একটি ভুল ফোনকলের মাধ্যেমে শুরু হয়েছিল। আমি শুধু বলেছিলাম, আপনি যাকে কল করেছেন এটা সে নাম্বার না। তারপর নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করার ধরন দেখেই আমি তার প্রেমে পড়েছি। সে এখন আমার সঙ্গে মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়েই সংসার করছে। আমি জানতাম না তার বয়স এত বেশি হবে। কিন্তু তাকে আমি ভালোবেসেছি। তাই তাকে সারাজীবন সঙ্গে নিয়ে থাকতে চাই।’

বিয়ের আগে কনে মার্থা একাই একটি বাড়িতে বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে বিয়ে করে দেশের বাইরে আছেন। আর স্বামী মারা গেছেন ১০ বছর আগে। তাই এ দশ বছর একা একা অনেক কষ্টে কাটাতে হয়েছে মার্থাকে। নতুন স্বামী পেয়ে তিনি খুবই খুশি। বিয়ের দিন নতুন কনের মত লজ্জার লাল আভা ছিল তার চোখে মুখে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে একটি সঙ্গী চাইতাম, যে আমাকে এ বয়সে দেখাশোনা করবে। তিনি আমার প্রার্থনা কবুল করে সোফিয়ানকে আমার কাছে পাঠিয়েছেন।’

সোফিয়ানের মা মাগডালানে ছেলের এমন পছন্দ নিয়ে প্রথমে খুবই হতাশ হয়েছিলেন। তাই তিনি ছেলের বউকে তার দাদীমার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কারণ, মাগডালানের বয়সই ৬০ বছর, আর পুত্রবধূর বয়স হবে কিনা ৮২ বছর!

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম না আমার ছেলে একজন দাদীমাকে পছন্দ করেছে। তাকে দেখার আগ পর্যন্ত আমাদের কাছে সবকিছু।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts