পরিবার জানত মেয়ে বিদেশে, পুুলিশ লাশ উদ্ধার করল মার্বেলের স্ল্যাব ভেঙে…

স্বামীর হাতেই খুন হতে হল আকাঙ্খাকে

পরিবার জানত মেয়ে বিদেশে গিয়েছে চাকরি করতে। কিন্তু গত ছ’মাস ধরে মেয়ে বাড়িতে যোগাযোগ না করায় সন্দেহের বশে পরিবার থানায় মিসিং ডায়েরি করেছিল। তদন্তে নেমে ভোপাল পৌঁছে বাঁকুড়ার পুলিশ জানতে পারল, ছ’মাস আগেই খুন হয়ে গিয়েছে তরুণী। শুধু তাই নয়, খুন করে ওই তরুণীকে বাড়ির ভিতরেই মার্বেলের স্ল্যাবের নীচে পুঁতে রেখেছিল তাঁর স্বামী।

নিহত ওই তরুণীর নাম আকাঙ্ক্ষা শর্মা। আদতে বিহারের বাসিন্দা আকাঙ্কার বাবা বাঁকুড়ার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার। সেই সূত্রেই গত প্রায় এক বছর বাঁকুড়াতে থাকে ওই পরিবারটি। গত বছর জুন মাসে বাঁকুড়ার বাড়ি ছাড়ে ২৮ বছরের আকাঙ্ক্ষা। পরিবারকে তিনি জানিয়েছিলেন, বিদেশে চাকরি করতে যাচ্ছেন। এর পর থেকে ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিবার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাস থেকেই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি তাঁর পরিবার। বাধ্য হয়ে গত জানুয়ারি মাসে থানায় অভিযোগ জানায় আকাঙ্ক্ষার পরিবার। তদন্তে নেমে পুলিশ আকাঙ্ক্ষার মোবাইলের শেষ টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে পৌঁছয়। ভোপাল পুলিশের সাহায্য নিয়ে উদয়ন দাস নামে এক যুবকের সঙ্গে আকাঙ্ক্ষার যোগাযোগের প্রমাণ আসে পুলিশের হাতে। ভোপালের গোবিন্দপুরা এলাকার অভিজাত পরিবারের যুবক উদয়নকে আটক করে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানতে পারে, বিদেশ নয়, বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোপালে গিয়েছিলেন আকাঙ্ক্ষা।

পুলিশকে ধৃত উদয়ন জানায়, ফেসবুকের মাধ্যমে তার সঙ্গে আকাঙ্ক্ষার পরিচয় হয়েছিল। দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। পরিবার ছেড়ে

তাই প্রেমিক উদয়নের কাছে গিয়ে ভোপালে থাকতে শুরু করে আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসে আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিবাদ হয় উদয়নের। জেরায় ভেঙে পড়ে উদয়ন স্বীকার করে, আকাঙ্ক্ষাকে খুন করে বাড়ির একটি ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে সে। একটি চৌবাচ্চা তৈরি করে তার ভিতরে আকাঙ্ক্ষার দেহ ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে মার্বেলের স্ল্যাব দিয়ে ঢালাই করে দেয় উদয়ন।উদয়নের থেকে এই তথ্য পেয়েই অভিযুক্তের বাড়ি গিয়ে আকাঙ্ক্ষার দেহ উদ্ধারের জন্য মার্বেলের স্ল্যাব ভাঙতে শুরু করে পুলিশ। এর পরেই আকাঙ্ক্ষার দেহের খোঁজ মিলে।

ধৃত উদয়নকে ট্রানজিট রিম্যান্ডে এরাজ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে বাঁকুড়ার পুলিশ। কিন্তু আকাঙ্ক্ষাকে কেন খুন করল উদয়ন? জেরায় পুলিশকে উদয়ন জানিয়েছে, ২০০৭ সালে আমেরিকার নিউ ইয়র্কে দু’জনে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু আকাঙ্ক্ষা ভোপালে এসে তার সঙ্গে থাকতে শুরু করতেই দু’জনের সম্পর্কে ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত গলা টিপে আকাঙ্ক্ষাকে খুন করে উদয়ন।

পুলিশের অনুমান, আকাঙ্ক্ষা অন্য কোনও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে, এই সন্দেহ থেকেই তাঁকে খুন করে থাকতে পারে উদয়ন। উদয়ন নিজেও যথেষ্ট স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে। উদয়নের মা ইন্দ্রাণী দাস মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্রিশগড়ের ডিএসপি পদমর্যাদার চাকরি করেছেন। অভিযুক্ত যুবকের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, একাই ওই চৌবাচ্চা তৈরি করে তার উপরে মার্বেলের ঢালাই করেছিল উদয়ন। কাউকে ওই ঘরের আশেপাশে যেতে দিত না সে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts