পুলিশ কনস্টেবলের বীরত্বে রক্ষা পেলেন অনেকে

পুলিশ কনস্টেবলের বীরত্বে রক্ষা পেলেন অনেকে

সোমবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টা। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আউটার সিগন্যালের অদূরেই নগরীর নতুন বাজার রেলক্রসিং। জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেন ছুটে আসছে। অন্যান্য দিন ট্রেন আসার মিনিট পনের আগেই এখানে গেট ব্যারিয়ার ফেলা হলেও এদিন যান্ত্রিক গোলযোগে তা সম্ভব হয়নি।

ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেন এদিন তাই যেন বিপদের রূপধারণ করেই চলে এলো। কিংকর্তব্যবিমূঢ় গেটকিপার বাবুল ওরফে ইউনুস। কিন্তু হরতালের ডিউটিতে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) কনস্টেবল মীর ছমির আলীর তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় ট্রেনটা কোনো বিপদ না ঘটিয়েই তার গন্তব্যে চলে গেল।

ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটা যখন নতুন বাজার রেলক্রসিংয়ের কাছাকাছি চলে এসেছে, তাৎক্ষণিক রেললাইনের ওপর উঠে গেলেন মীর ছমির আলী। চিৎকার জুড়ে দিলেন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। ভোজবাজির মতো কাজও হলো। ক্রসিংয়ের ওপর থাকা রিকশাসহ অন্যান্য যানের চালক, চলাচলরত পথচারী- সবাই সাবধান হয়ে গেলেন। মুহূর্তেই রেললাইনের ওপর থেকে সরে গেলেন সবাই। বিপদ এড়িয়ে চলে গেলো ট্রেন।

পুলিশ কনস্টেবল ছমিরের বুদ্ধিমত্তা, সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রশংসা করলেন সবাই। নায়ক বনে গেলেন যেন তিনি। সোমবার দুপুর নাগাদ এ ঘটনা গোটা নগরীতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ছমির হয়ে উঠেন ‘টক অব দ্য টাউন’।

স্থানীয়রা জানান, নগরীর সানকিপাড়া রেলক্রসিং থেকে নতুন বাজার রেলক্রসিং পর্যন্ত রেললাইনটি বাঁকা। প্রায় ৪০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে আসছিল ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস। কিন্তু স্টেশন থেকে তখনো কোনো সংকতে আসেনি। ফেলা হয়নি রেলক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার। ফলে অন্যান্য সময়ের মতো তখনও ক্রসিংয়ের ওপর ছিল যানবাহনের জট।

জুলফিকার আলী নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, পুলিশ কনস্টেবল যদি তাৎক্ষণিক ছুটে না আসতেন, তাহলে নির্ঘাত বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) কনস্টেবল মীর ছমির আলীর চাকরির জীবন শেষ প্রান্তে। টাঙ্গাইল সদরের মীরের বেদকা গ্রামের প্রয়াত মীর বরজুক আলী ও রেজিয়া বেগমের ছেলে তিনি।

সোমবার (২৮ মার্চ) বিকেলে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (ডিএসবি) নূর আলমের কার্যালয়েই সাক্ষাৎ মেলে মীর ছমির আলীর। তিনি বলেন, পুলিশি দায়িত্ববোধ থেকে আমি এ কাজ করেছি। মানুষের সেবায় সব সময় কাজ করে যেতে চাই। মানুষের ভালোবাসা নিয়েই কাজ করতে চাই।

জানতে চাইলে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) নূর আলম বলেন, ছমির আলী একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্য। তার উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার জন্য অনেকের জীবন রক্ষা পেয়েছে। নি:সন্দেহে এটা প্রশংসার দাবিদার।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

Related posts

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.