ব্লেড গিলে ফেললো যুবক, অত:পর…

bled
Share Button

পেটব্যথা আর জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বছর পঁচিশেকের এক যুবক। চেন্নাইয়ের স্ট্যানলি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। কেবল প্রাথমিকভাবে স্ক্যান করে দেখা গিয়েছিল যকৃতে পুঁজ জমেছে। এইটুকুতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, খুব সিরিয়াস কিছু হয়েছে ওই যুবকের। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, দ্রুত অপারেশন করা দরকার। কিন্তু কেউই ভাবতে পারেননি, কী বিস্ময় তাঁদের জন্য অপেক্ষা করে আছে।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানা যাচ্ছে, চিকিৎসক পুন্নমবলম নমশিভায়ম এর পরেই আবিষ্কার করেন, কালিদাস নামের ওই যুবকের শ্বাসযন্ত্রে আটকে রয়েছে একটি অর্ধেক ব্লেড ও অন্ত্রে রয়েছে একটি ১২ সেমি দৈর্ঘ্যের প্লাস্টিকের স্ট্র! রীতিমতো হতবাক হয়ে যান তিনি। যুবকটি কেমন করে বেঁচে গেল ভাবতেই পারছেন না হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীরা। ওই চিকিৎসকের কথায়, ‘‘এটা একেবারেই অলৌকিক, যে ওই যুবক বেঁচে গেল। সামান্য হাঁচি দিলেই ব্লেডটি ফুসফুসে গেঁথে যেতে পারত।’’

জানা যাচ্ছে, একটি টিউবকে কালিদাসের মুখ দিয়ে ঢুকিয়ে ফুসফুস পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। সেই পাইপের সঙ্গে লাগানো ফরসেপের (চিমটে) সাহায্যে ব্লেডটি বের করে আনা হয়। প্রচুর রক্তপাত হতে থাকে। কালিদাসকে প্রায় চারদিন ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। এর পরে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

এর কয়েক দিন পরে আবার অপারেশন করে স্ট্রটি বের করে নেওয়া হয়। কালিদাস এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। এই কেসটাকে চিকিৎসা শাস্ত্রের ক্ষেত্রে ‘অলৌকিক’ বলে মানছে চিকিৎসক মহল।

ব্লেড গিলে ফেলার পরেও মানসিক ভাবে অসুস্থ কালিদাসের বেঁচে যাওয়ার ঘটনা আবারও সকলকে মনে মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রাচীন যুগ থেকে চলে আসা সেই বহু পরিচিত অমোঘ বাক্যবন্ধ। ‘রাখে হরি মারে কে’।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts