যমজ সন্তান বাঁচাতে ওষুধ উদ্ভাবন করে ফেললেন মা–বাবা!

যমজ সন্তান বাঁচাতে মা–বাবার ওষুধ উদ্ভাবন
Share Button

হিউ ও ক্রিস হেম্পেল দম্পতির যমজ দুই মেয়ের বয়স তখন মাত্র দুই বছর। এই বয়সে শিশু দুটি আক্রান্ত আলঝেইমার রোগে। যথাযথ চিকিৎসা না থাকায় চিন্তিত হয়ে পড়েন এই দম্পতি। তবে ভেঙে পড়েননি। সন্তানদের সুস্থ করতে শেষতক ওষুধই উদ্ভাবন করে বসলেন তাঁরা। অথচ ওষুধ নিয়ে গবেষণায় কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না এই দম্পতির!

১০ বছরের বেশি সময় ধরে সন্তানদের সুস্থতা নিয়ে লড়তে হচ্ছে হেম্পেল দম্পতিকে। যমজ দুই মেয়ে আদ্দি ও ক্যাসি। দুজনই জিনবাহিত বংশগত রোগে আক্রান্ত। দেহে দুটি নিম্যান-পিক ধরনের সি জিন কার্যকর থাকায় শৈশবেই আলঝেইমারে ভুগছে শিশু দুটি। বাবা-মায়ের উদ্ভাবিত ওষুধেই এখন চলছে চিকিৎসা। আর তা করতে গিয়ে ইবোলা ভাইরাসের জন্য কার্যকর ওষুধ তৈরির সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ রোগে আদ্দি ও ক্যাসির দেহে কোলেস্টেরলের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে বেড়ে যাচ্ছিল। এতে শিশু দুটির মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছিল, কাজ করছিল না ঠিকমতো। এরপরই শুরু হয় বাবা-মায়ের গবেষণা। নিজের গবেষণায় ক্রিস জানতে পারেন, সাইক্লোডেক্সট্রিন নামের এক পদার্থ ইঁদুরের দেহে নিম্যান-পিক জিনের কার্যকারিতা বন্ধ করতে পারে।

প্রথমে সাইক্লোডেক্সট্রিন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মেয়েদের খাওয়ানো শুরু করেন ক্রিস ও হিউ। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় পরে তাঁরা এ ধরনের একটি ওষুধ তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। যাতে করে রক্তের মাধ্যমে শিশু দুটির মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে সাইক্লোডেক্সট্রিন। এ জন্য বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে আদ্দি ও ক্যাসির রক্তে ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ ঢোকানোর কাজ শুরু হয়। অবশ্য এখন সেই পদ্ধতিতেও সরাসরি মস্তিষ্কে ওষুধ যেতে সমস্যা হওয়ায় মেরুদণ্ডের মাধ্যমে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

রোগ ধরা পড়ার পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, ৭ বছর বয়সের পর আর বাঁচবে না শিশু দুটি। এখন আদ্দি ও ক্যাসির বয়স ১৩ বছর। তবে তাদের মা ক্রিস মনে করেন, নিজেদের তৈরি ওষুধ না পেলে হয়তো এ পর্যন্ত বেঁচেই থাকত না তাঁর সন্তানেরা। এখন একই রোগে আক্রান্ত অনেকের অভিভাবকও যোগাযোগ করছেন ক্রিসের সঙ্গে। এ ধরনের বিরল রোগের বিরুদ্ধে সংগ্রামে হেম্পেল দম্পতির সাহসই তাঁদের আশা দেখাচ্ছে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts