প্রথম মুসলিম অভিনেতা মাহারশালা আলীর অস্কার জয়ের গল্প

মাহারশালা আলী
Share Button

প্রথম মুসলিম অভিনেতা হিসেবে বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে দামি পুরস্কার অস্কার জয়ী মাহারশালা আলী মূলত আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য। মার্কিন ড্রামা ফিল্ম ‘মুনলাইট’ ছবির জোয়ান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য এবারের সেরা পার্শ্ব অভিনেতার অস্কার জয়ী হয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ওকল্যান্ডের একটি খ্রিস্টান পরিবারে ১৯৭৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেন এ অভিনেতা। প্রথমে তার নাম রাখা হয় এরিক গিলমোর।

পরে খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল অনুযায়ী তার নাম রাখা হয় মাহের শালাল হাশ বাজ। তার মা উইলিসিয়া একজন খ্রিস্টান মিনিস্টার (চার্চ অনুমোদিত ধর্মীয় শিক্ষক)। তিনি ছেলেকে খ্রিস্টান হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

২০০০ সালে আহমদিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত অভিনেত্রী, কম্পোজার এবং শিল্পী আমাতুস সামি করিম এবং তার মায়ের সঙ্গে আহমদিয়াদের একটি উপসনালয় পরিদর্শন করেন এরিক। এরপরই খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে মুসলিম হিসেবে ধর্মান্তরিত হন এরিক। এ সময় খ্রিস্টান নাম বাতিল করে ‘মাহারশালা করিম-আলি’ নাম রাখেন তিনি।

সামি করিমের সঙ্গে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বন্ধুত্ব হয় মাহারশালার। পরে ২০১৩ সালে বিয়ে করেন তারা। গত ২২ ফেব্রুয়ারি এ দম্পতি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তার নাম বারি নাজমা। মাহারশালা আলী ক্যালিফোর্নিয়ার সেইন্ট মেরি কলেজে ‘গণযোগাযোগ’ বিষয়ে গ্রাজুয়েশন করেন। সেখানেই ‘স্পুংক’ নামে একটি মঞ্চনাটকের মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। পরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া শেকস্পিয়র থিয়েটারে যোগ দেন। ২০০০ সালে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে অভিনয়ের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি করেন তিনি। পরে নেটফ্লিক্সের ‘হাউস অব কার্ডসে’ রেমি ড্যান্টন এবং ‘লুক কেইজে’ কর্নেল স্টোকস, দ্য হাংগার গেমস: মকিং জে পার্ট-১ ও ২ এ কর্নেল বোগাস এবং ‘দ্য কিউরিয়াস কেস অব বেনজামিন বাটনে’ টিজি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি।

২০১৬ সালে ‘মুনলাইট ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন মারশালা আলী। এজন্য গত ডিসেম্বরে তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে ‘ক্রিটিক চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেন। অবশেষে ৮৯তম অস্কারও জয় করেন তিনি। এ সময় মাহেরশালা আলী তার বক্তৃতায় ইসলাম গ্রহণ এবং এ বিষয়ে তিনি ও তার মা কীভাবে পুনর্মিলিত হতে সক্ষম হন সে সম্পর্কে উপস্থিত দর্শকদের চমৎকারভাবে বর্ণনা করেন। অস্কার পরবর্তী তার বক্তৃতায় বর্তমান আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবেশের একটি প্রতিচ্ছবিই ফুটে ওঠে। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার মা একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পাদ্রী। আমি ১৭ বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমি যখন মাকে আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানাই তখন তিনি আমাকে দূরে ঠেলে দেননি। আমি তাকে দেখতে সক্ষম হয়েছি এবং তিনিও আমার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হন। আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। আমাদের মা-ছেলের ভালোবাসা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসলিম হওয়ার পর আমার মা আমাকে দূরে ঠেলে দেননি। দিলে সম্পর্ক ভালো থাকত না। আমরা মা-ছেলেও ভালো থাকতাম না। বুকে টেনে নিয়েছেন বলেই আমরা উভয় সুখে আছি।’

তার এমন বক্তব্যে ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী নীতিরই সমালোচনা করা হয়।

এর আগে ‘দ্য ফোর ফোর জিরো জিরো’, ‘ক্রসিং জর্ডান’ ইত্যাদি নামের বেশ কিছু টিভি সিরিজে অভিনয় করেন। বেশ কয়েক বছর টিভি তারকা হয়ে থাকলেও ২০০৮ সালে ‘দ্য কিউরিয়াস কেস অব বেনজামিন বাটন’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। তবে বড় পর্দা তাকে এত বড় উপহার দেবে তা মাহেরশালা ভাবেননি কখনই। অস্কার পাওয়ার পর এমনটিই জানিয়েছেন এক সাক্ষাৎকারে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts