যে কারণে বাংলাদেশে এসেছিলেন গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহত তারিশি জৈন

tarishi-killed in Dhaka Attack
Share Button

আর পাঁচটা ছাপোষা সাধারণ ছেলেমেয়ের মতো তিনিও কি ভেবেছিলেন সব যুদ্ধ থেমে যাবে একদিন? রাইফেলের জং ধরে পড়ে থাকার স্বপ্ন কি দেখেছিলেন কোনওদিন? সন্ত্রাসের নাম নিশ্চয়ই শুনেছিলেন। কিন্তু কখনও কি ভেবেছিলেন সেই সন্ত্রাসের বলি হয়ে যেতে হবে নিজেকেই?

শুক্রবার গুলশানে জঙ্গি হানায় অকালে ঝরে গেলেন তারিশি জৈন। গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারি রেস্তরাঁয় আরও ২০ জন নিষ্পাপ মানুষের সঙ্গে আজ নিথর হয়ে গেছে সেই স্বপ্ন।

দুই বাংলাদেশী বন্ধুকে নিয়ে হোলি আর্টিসান বেকারির রেস্তোরাঁয় ডিনার করতে গিয়েছিলেন তারিশি। ইউনিভার্সিটির ছুটিতে আমেরিকা থেকে ঢাকা এসেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল বাবা, মা, দাদাকে সঙ্গে নিয়ে কটা দিন কাটিয়ে যাবেন উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদের পারিবারিক ভিটেতে। তার পরই তারিশির আবার ঢাকা হয়ে আমেরিকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

১০ ঘণ্টা লড়াইয়ের শেষে ঢাকার গুলশানের রেস্তোরাঁ থেকে ১৮ বছরের সেই তরতাজা ভারতীয় তরুণীর দেহ যখন বের করে আনা হল ততক্ষণে সব শেষ। ছুটি কাটাতে ঢাকায় নিজের বাড়িতে যখন আসেন তারিশি, তখনও আঁচ করতে পারেননি কী ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ অপেক্ষা করছে তার জন্য।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের ছাত্রী ছিলেন তারিশি। ভারতের উত্তরপ্রদেশে আদি বাস হলেও দীর্ঘ দিন ঢাকার বাসিন্দা তারিশির পরিবার। বাবা সঞ্জীব জৈন ঢাকার বস্ত্র ব্যবসায়ী। গত ১৫-২০ বছর ধরে ঢাকাতেই পাকাপাকি ভাবে থাকতেন তারা। ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে স্কুলের পাঠ শেষ করেছিলেন তারিশি।

শুক্রবার রাতে হোলি আর্টিজেনে জঙ্গিদের হাতে পণবন্দি হয়েছিলেন তিনি। আর বাড়ি ফেরা হল না তার। বাংলাদেশ সেনা ১৩ জন পণবন্দিকে উদ্ধারে সক্ষম হলেও সেই তালিকায় ছিলেন না তারিশি।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts