আজকের জোকস, ২৬ মার্চ ২০১৬

আজকের জোকস

বুদ্ধিহীনা

একবার এক মহিলা পুলিশ এক সরিষাখেতের পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল।

হঠাৎ সে দেখলো, মলি আন্টি সরিষাখেতে একটা ডিঙি নৌকা বাইতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

ব্যাপারটা দেখে পুলিশিনী গাড়ি থামালো। তারপর মলি আন্টিকে চিৎকার করে বললো, “আপনার মত বোকাসোকা মহিলাদের জন্য পুরুষেরা বলতে সাহস পায় যে, মেয়েদের চাইতে নাকি তাদের মাথার উকুন বেশি বুদ্ধিমান। বুঝলেন?

আমি যদি সাঁতারটা জানতাম না, তাহলে এতক্ষণে এসে আপনার পশ্চাতে দু দুটো লাথি কষতাম।”

বাজি

মলি আন্টি আর তার বান্ধবী জলি, সন্ধ্যে ছটায় এটিএন বাংলায় একটা খবরের রিপোর্টিং দেখছেন। এক লোক একটা বিশতলা ইমারতের উপর থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে। সে দৃশ্য আর আনুষাঙ্গিক খবরাদি টিভি পর্দায় ঘটা করে সম্প্রচার করা হচ্ছে।

জলি আন্টি মলি আন্টিকে বললেন, “চলো মলি, একটা বাজি ধরি। লোকটি যদি সত্যি সত্যি আত্মহত্যা করে তাহলে তুমি আমাকে একশো টাকা দেবে, আর যদি প্রমাণিত হয় তার সবকিছু ভংচং, অর্থাৎ সে যদি না ঝাঁপায়, তাহলে আমি তোমাকে দেব একশো টাকা”

রাজি হলেন মলি আন্টি।

কিছুক্ষণ পর দেখা গেলো লোকটা সাফ সাফ উঁচু থেকে ঝাঁপিয়ে পড়লো। পড়ে তার হাঁড়গোড় কিমা হয়ে গেলো। বাজি জিতে গেলেন জলি আন্টি।

মলি আন্টি একশো টাকার নোট বের করে দিতেই জলি আন্টি গোমড়া মুখে বললেন, “থাক থাক, বাদ দাও।

আসলে আমার এমন বাজি ধরাটা উচিত হয়নি। এমনিতে একটা লোকের জীবন-মৃত্যুর ব্যাপার, তার উপর এই বুলেটিনটা আমি তিনটার খবরেও দেখেছি।”

মলি আন্টি বললেন, “তুমি টাকাটা রাখো। বাজি- বাজিই, এ ব্যাপারে আমি কোন লড়চড় করিনা।

তাছাড়া আমি নিজেও তিনটার খবর দেখেছি। কিন্তু ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারিনি যে লোকটা ফের একই কাণ্ড করবে।”

ধৃতপ্রায়

মলি আন্টি আর তার দুই সহকর্মী অনেক বেলা পর্যন্ত অফিসে কাজ করেন, অথচ তাদের মহিলা বসটা বেজায় ফাঁকিবাজ। তিনি বিকেলটা পড়ে আসতেই হিল জোড়া পায়ে গলিয়ে বাসায় ফেরত যান।

তো, একদিন মলি আন্টির এক সহকর্মী বললেন, “দেখেনতো কারবারটা। ওই মহিলা বিকাল না হতেই বাড়ি যেতে কেমনটা হুড়োহুড়ি করে। চলেন, এখন থেকে আমরাও এ কাজ করবো। তিনি অফিস থেকে বের হওয়ার কয়েক মিনিট পরই আমরা বেরিয়ে যাবো। ওই মহিলা জানতেও পারবেনা। তাহলে আমরা আমাদের পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতে পারবো।”

প্রস্তাবে মলি আন্টি আর তার দ্বিতীয় সহকর্মী পূর্ণ সহমত জ্ঞাপন করলেন।

পরের দিন, তিন মহিলা তাদের বস-আপা বেরুনোর কিছু পরেই সুড়সুড় করে বেরিয়ে গেলেন। প্রথমজন বাসায় গিয়ে নিজের বাগানের আরেকটু ভালো পরিচর্যা করতে পারলেন। দ্বিতীয়জন তার স্বামী-সন্তানের সাথে আরেকটু বেশি সময় কাটালেন।

কিন্তু মলি আন্টি বাসায় ঢুকে দেখলেন, তার বস স্বয়ং তার বিছানায় শোয়া। আর সে মহিলার উপরে আসীন তার স্বামী। তারা দুজনে আনন্দঘন লীলাকর্মে ব্যস্ত। দৃশ্যটা মলি আন্টিকে হতচকিয়ে দিল। তবে তিনি কিছু না বলে ক্লিশে পদক্ষেপে পাশ কাটিয়ে বাথরুমে চলে গেলেন।

পরের দিন সকালে প্রথম সহকর্মী তার বাগানের ফুলগুলোর গল্প করলেন আর বললেন, এখন থেকে তিনি প্রতিদিনই আগে আগে চলে যাবেন। দ্বিতীয়জনও নিজের ছোট্ট সোনামণির দুষ্টমির কথা বললেন আর এভাবে আগে বাড়ি ফেরার ধান্দাটা নিয়মিত করতে সহমত পোষণ করলেন।

মলি আন্টির মতামত জানতে চাইলে তিনি নিচু স্বরে বললেন, “নাহ, আমি আর আগে আগে বাসায় ফিরছিনা।”

“কেনো?”, জিজ্ঞেস করলেন বাকি দুজন।

-”কালকে আরেকটু হলেই আমি ধরা খেতাম।”

বেখেয়ালী

মলি আন্টি বাস থেকে নেমে হেঁটে আসছেন।

এক পুলিশ দেখলো- তার ব্লাউসটা খোলা, আর ডানদিকের স্তনটা ব্লাউস উজিয়ে বের হয়ে রয়েছে।

দেখে, পুলিশটা একটু বিব্রত হলেন।

তারপর মলি আন্টির কাছে গিয়ে বললেন, “ম্যাডাম, আপনি কি জানেন না যে রাস্তাঘাটে অশ্লীল বেশভূষা নিয়ে চলাফেরা করা দণ্ডনীয় অপরাধ।”

“অ্যাঁ, আমি কি অশ্লীলতা করলাম আবার?”, অবাক হলেন মলি আন্টি।

“ওই ওদিকটায় দেখুন।” আঁড়চোখে ইংগিত করলো পুলিশ। “দেখুন। আপনার ইয়ে একটা বের হয়ে রয়েছে।”

মলি আন্টি তাকালেন আর চিৎকার করে উঠলেন, “হায় হায়, আমি আমার বাবুটাকে বাসে ফেলে এসেছি।”

হননেচ্ছা

একবার মলি আন্টি সন্দেহ করলেন তার স্বামী, মোতা ভাই, গোপনে পরকীয়া করে বেড়াচ্ছে । তাই তিনি তার মিলিটারি এক মামার কাছ থেকে রিভলভার ধার করে আনলেন। ব্যাপারটা তলব করে দেখার জন্য একদিন জলদি জলদি অফিস থেকে বাসায় ফিরলেন তিনি। এসে দেখলেন তার স্বামী এক মহিলার সাথে বিছানায় উদ্যাম আদিক্রীড়ায় মত্ত।

দেখে মলি আন্টি ভীষণ ক্রুদ্ধ এবং ততোধিক মর্মাহত হলেন। ত্বরিৎ তার ভ্যানিটি ব্যাগটা থেকে রিভলভার বের করে নিজের মাথায় ঠেকালেন তিনি।

“জান আমার”, বললেন মোতা ভাই। “খোদার দোহাই লাগে, অমনটা কোরো না।”

“চোপরও বদমাশ”, ক্রুদ্ধকন্ঠে বললেন মলি আন্টি। “এরপর তোমার পালা।”

টিকেট

গাড়ি চালানোর সময় এক ট্রাফিক পুলিশ মলি আন্টিকে দাঁড়া করালো।

“এইযে ম্যাডাম, আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স বের করেন দেখি।”, বললো পুলিশ।

“বাঃ, কী চমৎকার প্রশ্ন!!”, তির্যক স্বরে বললেন মলি আন্টি। “এই, গতকালই
আমার লাইসেন্স কার্ডটা নিয়ে রেখে দিলেন, আজ কোন মুখে আবার সেটা চাইতে এসেছেন?”

থার্মোস

মলি আন্টি গেলেন একটা স্টোররুমে ঢুকলেন। দূরের একটা তাকে অদ্ভুত একটা জিনিস দেখে তিনি দোকানিকে বললেন, “ওটা কি?”

“ওটা হলো ‘থার্মোস’ ”

“সেটা আবার কি? কি করে ওটা দিয়ে?”, মলি আন্টির বিস্ময় এখনও কাটছেনা।

দোকানি বললো, “ওটা গরম জিনিসকে গরম আর ঠাণ্ডা জিনিসকে ঠাণ্ডা রাখে।”

মলি আন্টি মুগ্ধ হয়ে একটা কিনে নিলেন। পরের ডিন অফিসে সেটা নিয়ে গেলেন। বস দেখলেন মলি আন্টির হাতে চকচকে কি যেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন “তোমার হাতে ওটা কি?”

“থার্মোস”, মলি আন্টি বললেন।

“কি করে ওটা দিয়ে?”

“এটা গরম জিনিসকে গরম আর ঠান্ডা জিনিসকে ঠান্ডা রাখে।”

বস আগ্রহ ভরে জিজ্ঞেস করলেন, “তো, তুমি ওখানে কি রেখেছ?”

মলি আন্টি উৎফুল্ল জবাব দিলেন, “কাপ দুয়েক পরিমান কফি আর কয়েকটা বরফের টুকরো।”

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment