গর্ভবতী মায়ের ডেঙ্গু হলে কী করবেন ?

গর্ভবতD মা

মানুষের সাথে সাথে মশাও তাদের চরিত্র বদলায় । পৃথিবীতে
মানুষ যতই ঢাল তলোয়ার নিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করছে, বুদ্ধিমান ডেঙ্গু ভাইরাসেরা ততই নিজেদের চরিত্র বদলে ফেলছে। আর এর ফলেই ডেঙ্গু জ্বর ক্রমশ মারাত্মক আকার নিচ্ছে।

যাঁরা মা হতে চলেছেন তাঁদের জন্যে ডেঙ্গু অত্যন্ত মারাত্মক। জ্বর হলেই হবু মায়েদের নানা শারীরিক অসুবিধা দেখা দিতে পারে। আর ডেঙ্গুর ভাইরাস জনিত জ্বর যে আরও ভয়ঙ্কর চেহারা নেয় তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

যদি জ্বর হয় :
জ্বর হলেই যে ডেঙ্গু বা মারাত্মক সমস্যা তা নয়। তবে এ বছর ডেঙ্গুর মহামারী শুরু হয়েছে। তাই আগাম সাবধানতা নিতেই হবে। হবু মায়ের যদি জ্বর হয়, কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

সাধারণ ভাইরাল ফিভারের সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বরের সামান্য কিছু তফাৎ আছে। এডিস ইজিপ্টার কামড়ের সঙ্গে ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে উপসর্গ হিসেবে কাঁপুনি দিয়ে প্রবল জ্বর হয়। ভয়ানক মাথা যন্ত্রণা করে, গা হাত পা ব্যথা করে এবং সামগ্রিক ভাবে শরীর খুব খারাপ লাগে।

এ ছাড়া খাবার বিস্বাদ লাগে, খেতে ইচ্ছা করে না। গা বমি ভাব ও বমি হতে পারে। পেটে, পিঠে ছোট ছোট মশার কামড়ের মত র‍্যাশ বেরোয় ও প্রস্রাব কমে যেতে পারে। কখনও আবার মাড়ি বা অন্য কোনও অংশ দিয়ে রক্তপাত হয়।

কী করবেন :

হবু মায়েদের জ্বর হলেই ডাক্তার দেখানো দরকার। জ্বর হলেই ডিহাইড্রেশন হয়। তাই প্রচুর জল ও জলীয় খবার খাওয়া উচিত। ওআরএস যুক্ত জল ছাড়াও বারে বারে অল্প অল্প করে সাধারণ জল খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুপ, জুস খেলে ভাল হয়। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ছাড়া আর কোনও ওষুধ খাওয়া চলবে না।

অনেক সময় হবু মায়েদের ব্লাড থিনার দেওয়া হয়। জ্বর হলে ব্লাড থিনার খাওয়া বন্ধ করতে হবে। প্যারাসিটামল খাওয়ার পরেও জ্বর না কমলে জ্বর হওয়ার তৃতীয় দিনে ডেঙ্গুর রক্ত পরীক্ষা করা আবশ্যিক। অনেক সময় ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জ্বর নেমে গেলেও দুর্বলতা বাড়তে থাকে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রোগীর অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করে।

গত কয়েক মাসে আমাদের কাছে জ্বর নিয়ে যে সব হবু মা এসেছেন, তাঁদের ৫০%-এর রক্তে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং, জ্বর হলে সেলফ মেডিকেশন করে বিপদ বাড়াবেন না।

যদি বমি হয় :

জ্বরের সঙ্গে বমি হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়াই শ্রেয়। না হলে ডিহাইড্রেশন হয়ে গিয়ে মা ও গর্ভস্থ শিশু দুজনেরই জীবন বিপন্ন হতে পারে। হবু মায়ের জ্বর হলে বাড়ির লোকজনকেও সতর্ক হতে হবে। ডিহাইড্রেশন ঠেকানোর একমাত্র উপায় স্যালাইন দেওয়া। তাই বাড়িতে রেখে চিকিৎসার ঝুঁকি নেওয়া অনুচিত।

প্রসবের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয় :

গর্ভাবস্থার শেষের দিকে হবু মায়ের জ্বর হলে প্রসব বেদনা শুরু হওয়া ঝুঁকি থাকে। ওষুধ দিয়ে লেবার পেন পিছিয়ে দিতে হয়। ন হলে মা ও শিশু দু’জনেরই সমস্যা হতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের এক অন্যতম সমস্যা রক্তে অনুচক্রিকা বা প্লেটলেট স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় বলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। কেননা প্লেটলেট রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

এ দিকে প্রসবের সময় স্বাভাবিক নিয়মে আধ থেকে এক লিটারের কাছাকাছি ব্লিডিং হয়। প্লেটলেট কমে গেলে অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাত হয় বলে বিশেষ ওষুধের সাহায্যে মায়ের লেবার পেন পিছিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশু ও মাকে অনবরত মনিটরিং করা হয়। অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে বলে সিজার করার ঝুঁকি না নেওয়াই ভাল।

অনেক সময় মায়ের ডেঙ্গু থাকার সময় শিশুর জন্ম হলে বাচ্চার জন্মগত ডেঙ্গুর আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে বাচ্চার জীবন বাঁচানো খুব মুশকিল। তাই হবু মায়ের লেবার পেন পিছিয়ে দিয়ে ডেঙ্গু সেরে যাওয়ার পর প্রসব করানো হয়।

যাঁরা মা হতে চলেছেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাঁদের মশারি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মশানাশক ক্রিম ব্যবহার করা দরকার। এ ক্ষেত্রে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ এই আপ্তবাক্য মেনে চলুন।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts