ডায়াবেটিসের বেশী ঝুঁকিতে ধনী পরিবারের শিশুরা

ডায়াবেটিসের বেশী ঝুঁকিতে ধনী পরিবারের শিশুরা
Share Button

বাংলাদেশে বয়স্কদের মতো শিশুদের ডায়াবেটিসের হারও ক্রমবর্ধমান। আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে শিশুদের ডায়াবেটিসও। আর এর মূলে রয়েছে খাদ্য এবং পরিবেশের দূষণ। এক সমীক্ষা জানাচ্ছে, উচ্চ আয়ের পরিবারের শিশুদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি।

ইব্রাহীম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ড. আবু সাঈদের নেতৃত্বে শিশুদের ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়া সংক্রান্ত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে শিশুর ডায়াবেটিসের হার হচ্ছে ৫.২ ভাগ।

বুধবার (৬ এপ্রিল) পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গবেষণা তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় মোট অংশগ্রহণকারীদের ১ দশমিক ৮ ভাগ ডায়াবেটিস রোগাক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়। ৩.৪ ভাগ অংশগ্রহণকারীর রক্তে ডায়াবেটিস প্রবনতা (আইএফজি) পাওয়া যায়। অর্থাৎ অংশগ্রহণকারী শিশুদের ৫.২ ভাগ ডায়াবেটিস রোগী ও রোগাক্রান্ত হওয়ার পথে।

এ ছাড়া গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কম বয়সী শিশুর ডায়াবেটিসের হার বেশি এবং গ্রামের শিশুদের চেয়ে শহরের শিশুরা ডায়াবেটিসে বেশি আক্রান্ত হয়।

পারিবারিক আয়ের সাথে ডায়াবেটিসের একটি সরাসরি সম্পর্ক এই গবেষণায় উঠে আসে। এতে দেখা গেছে, যে সব পরিবারের আয় বেশি সেসব পরিবারের শিশুদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও তত বেশি।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ছিল মোট ২ হাজার ১৫২ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ছিল ১ হাজার ৬৪ জন এবং ছাত্রী ছিল ১ হাজার ৮৮ জন। গবেষণায় আর্থসামাজিক অবস্থা, দৈহিক উচ্চতা, শরীরের ওজন, বিএমআই, মধ্যবাহুর পরিধি, রক্তচাপ, অভুক্ত অবস্থায় রক্তের গ্লুকোজমাত্রা মূলতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কর্তৃক নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণের পাশাপাশি গবেষণায় প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে।

এ গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ১৩.৩ বছর। এদের বিএমআই (বডি ম্যাস ইনডেক্স) হলো ১৮.৫ এবং মধ্যবাহুর পরিধি ছিল ১৮.৫ সে.মি.।

 

ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষায় সুপারিশ

শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ করে দিতে হবে। এজন্য প্রতিটি স্কুল-কলেজে আবাসিক এলাকায় খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে।

এখানকার অধিকাংশ শিশু টিভি, ভিডিও গেম, ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রযুক্তির নানাবিধ ব্যবহারা নিয়ে সারাক্ষণ বসে বা শুয়ে সময় কাটায়। ফলে শরীরের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এটিও শহুরে এবং উচ্চবিত্ত শিশুর স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। এই প্রবণতাকে সীমিত করার পথ বের করতে হবে।
খাবারের নানাবিধ বিষ ও ক্ষতিকর পদার্থের মিশেলের কারণে শিশুর শরীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। এতে শিশু নানাবিধ রোগের শিকারে পরিণত হচ্ছে। এটি বন্ধ করতে হবে।

মানুষের করা কাজের পরিণামে পরিবেশ বিপর্যস্ত। জল, বায়ু, মাটি, বৃক্ষ সব হুমকির মুখে। বৈশ্বিক উষ্ণতার ক্রমবৃদ্ধির ফলে সংঘটিত ঘটনাবলীতে মানুষের জীবনযাত্রা সংকটাপন্ন। শিশুর শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হওয়ায় এসব বৈরি অবস্থার শিকার তারাই হয়। তাই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সব কাজ বন্ধ করতে হবে।

বক্তারা বলেছেন, সবার আগে শিশু। শিশুরা রোগাক্রান্ত হওয়া মানে জাতি রোগগ্রস্ত হওয়া। তাই শিশুদের ডায়াবেটিসসহ যাবতীয় রোগ থেকে মুক্ত রেখে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বিকাশের সুযোগ করে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে হবে।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে এ গবেষণার উপর মূল বক্তব্য রাখেন ইব্রাহীম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পবা সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. মোজাহেরুল হক, বাংলাদেশ ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাবীবুল্লাহ তালুকদার, পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, সহ-সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, মো. সেলিম, প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, মডার্ন ক্লাবের সভাপতি আবুল হাসনাত, প্রকৌশলী মো. আবদুস সাত্তার প্রমুখ।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment