ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গায়নুরা

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গায়নুরা
Share Button

আমাদের নার্সারিগুলোতে হঠাৎ করেই কিছু গাছের আমদানি ঘটে। লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে এসব গাছের নানা উপকারিতার কথা, যার অধিকাংশই গুজব বা কল্পিত গপপো ছাড়া আর কিছুই নয়।

সম্প্রতি এ ধরনের একটি গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। ঢাকার আগারগাঁওসহ বিভিন্ন নার্সারিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গায়নুরা নামে এই গাছের পাতা ডায়াবেটিসের উপশমে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এর চারা সংগ্রহ করছেন। এর আগে আরও দুটি গাছ ডায়াবেটিসের প্রতিষেধক হিসেবে নার্সারিতে পাওয়া যেত, যার একটি গুরমার, অন্যটি স্টেভিয়া।

এখন আর সেগুলো নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায় না। আলোচ্য গায়নুরার স্থায়িত্ব কতটা দীর্ঘ হবে, তা এখনই বলা মুশকিল। আগারগাঁওয়ের প্রায় সব নার্সারিতেই এই গাছ দেখা গেছে। বিক্রেতারা এ গাছের নাম দিয়েছেন ‘আলফা’।

প্রতিটি গাছ বিক্রি হচ্ছে ক্ষেত্রবিশেষে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, একজন ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন সকালে দুটি করে তাজা পাতা চিবিয়ে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে এ ব্যবস্থাপত্র কতটা কার্যকর, তার সত্যাসত্য যাচাই করা যায়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বাংলাদেশের উদ্ভিদ ও প্রাণিজ্ঞানকোষে গায়নুরার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সে কারণে মনে করা হয়, আমাদের দেশে প্রাকৃতিকভাবে এ গাছের কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে এই গাছ নিয়ে দেশে নিজস্ব কোনো পর্যবেক্ষণও নেই। গাছটি কতটা উপকারী, সে সম্পর্কেও তেমন কোনো তথ্য নেই। তবে এদের নিকটাত্মীয়ের (এুহঁৎধ পৎবঢ়রফরড়রফবং) দেখা পেয়েছি সুনামগঞ্জ জেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে। বর্ষজীবী বিরুৎ গাছটির সুদর্শন ফুল খুব সহজেই নজর কাড়ে।

ফিলিপাইন মেডিসিনাল প্ল্যান্টস নামে একটি ওয়েবসাইটে গায়নুরার বহুমাত্রিক ঔষধি গুণাগুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে বলা হয়েছে, জাভা দ্বীপপুঞ্জে কিডনি রোগে, মালাক্কা অঞ্চলে আমাশয় প্রতিরোধে, থাইল্যান্ডে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগে এ গাছের কা , পাতা ও শিকড় ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।

এ ছাড়া টুথপেস্ট হিসেবে, লো-প্রেশার নিয়ন্ত্রণে এবং আলসার প্রতিরোধেও গায়নুরা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ব্লাডসুগার নিয়ন্ত্রণে। গায়নুরার এত সব উপকারিতার খবর কিন্তু ওয়েবসাইটটির নিজস্ব মতামত।

এই মত বা তথ্যের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক কোনো তথ্য-প্রমাণের উল্লেখ নেই। এ মুহূর্তে যারা এই গাছের পাতা ব্যবহার করছেন, তাদের নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ফলও আমাদের হাতে নেই।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান সমকালকে জানান, গায়নুরা নামক গাছটির কথা তারা বিভিন্নজনের মুখে শুনেছেন, তবে এখনও এর কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত নন। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অচিরেই তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হবেন। তখন জনগণকে বিস্তারিত জানানো হবে।

গায়নুরা মূলত (এুহঁৎধ ঢ়ৎড়পঁসনবহং) বিরুৎ শ্রেণীর সরল শাখার গাছ। বাহন পেলে লতানো স্বভাবেরও হতে পারে। পত্র উপবৃত্তাকার ও সবৃন্তক, পত্রফলক ২ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার, কিনারা কিছুটা করাতের মতো। শীর্ষ খর্বভাবে দীর্ঘাগ্র। ডালের আগায় নরম মঞ্জরিদ ে ফুলগুলো ফোটে। ফুলের ভারে মঞ্জরিদ নুয়ে থাকে। মঞ্জরি বেলনাকার বা কলসাকৃতি।

মঞ্জরিপত্র মুক্ত, ফ্যাকাশে সবুজ। ফুলের রঙ গাঢ় কমলা, মাঝেমধ্যে গোলাপি থেকে কমলা-হলুদও হতে পারে। ফুল ও ফল প্রায় বর্ষব্যপ্ত, তবে জলাভূমি অঞ্চলে বছরে মাত্র একবার। বীজ থেকে স্বাভাবিক নিয়মে চারা গজায়। ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, চীন ও মালয়েশিয়ায় প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts