‘হাসিখুশি গরুর’ দুধে বেশি পুষ্টি

‘হাসিখুশি গরুর’ দুধে বেশি পুষ্টি

ক্যালসিয়াম সকল শক্তির উৎস। আর এই ক্যালসিয়াম সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় গরুর দুধে। গরুর দুধে যেহেতু ক্যালসিয়াম বেশি থাকে তাই অনেকে ক্যালসিয়াম ঔষুধের পরিবর্তে এক গ্লাস দুধ খেয়ে নিতে পারেন। কারণ শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে এক গ্লাস দুধ সহায়ক হতে পারে। একটি গবেষণায় দেখাগেছে গরুর দুধে যে পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে তার পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। আর এর জন্য গরুকে থাকতে হবে সবসময় হাসিখুশি।

ক্যালসিয়ামের অনেক উৎসের মধ্যে হাসিখুশি থাকাও যে একটা উৎস হতে পারে তা আগে শুনেছেন কখনও? মানুষের ক্ষেত্রে কী ঘটে জানা না গেলেও, গরুর ক্ষেত্রে কিন্তু কথাটা একেবারে সত্যিই। আর গবেষকরাও তাই দাবি করছেন। তারা বলেন, অনেক গরু আছে যারা গর্ভকালিন সময়ে ঝিমিয়ে থাকে এমনকি চুপচাপ বসে থাকে। তার মানে বুঝতে হবে গরুটি মোটেও সুখী নয়। ভেতর ভেতরে সে চিন্তিত। আর এই কথাটি প্রমাণিত করার জন্য গবেষকরা গর্ভাবস্থায় কয়েকটি জার্সি গরুকে সব সময় হাসিখুশির রাখার ব্যবস্থা করেন। গর্ভাবস্থায় তাদেরকে সবসময় সচল রাখা হয়। এরপর বাচ্চা হওয়ার পর তারা দেখতে পান একটি ঝিমানো গরুর দুধের চেয়ে হাসিখুশি থাকা গরুর দুধের ক্যালসিয়ামের মাত্রা অনেকখানি বেড়ে গিয়েছে।

বাজারে ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ গরুর দুধের চাহিদা সবসময়ই রয়েছে। শুধু দুধ বলে নয়, দুগ্ধজাত যে কোনও খাবাররেই প্রাথমিক উৎস ক্যালসিয়াম। গরুর শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি তাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। সাধারণত গর্ভাবস্থার আগে ও পরে গরুর এই হাইপোক্যালসেমিয়া দেখা যায়। বিশেষত, গরুর যদি বদহজমে ভোগে তাহলে দীর্ঘসময় পর পর বাচ্চা দেয়। আর যার ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে গরুর দুধে। স্বাভাবিক কারণেই হাইপোক্যালসেমিয়ায় আক্রান্ত গরুর দুধেও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করে।

এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয় জার্নাল অফ অ্যান্ডোক্রিনোলজিতে। সেখানে হাইপোক্যালসেমিয়া নিয়ে গবেষণা চালাতে গিয়েই ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন-ম্যাডিসনের গবেষকরা দেখেন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সেরোটনিনের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। তারা আরও দেখেন, গরু কতটা হাসিখুশি রয়েছে তার উপরই নির্ভর করছে সেরোটনিনের রাসায়নিক মাত্রা। এই সেরোটনিনই রক্তে ও দুধে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts