আজ জিতলে হোয়াইট হাউস হিলারির!

Hillary Clinton

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো একজন নারী প্রেসিডেন্ট পেতে তার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সব সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। এটা মার্কিন ইতিহাসে প্রথম ও নাটকীয় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। আমেরিকা সৃষ্টির ২৪০ বছর পর ৪৪ জন পুরুষ প্রেসিডেন্টের উত্তরসূরি হিসেবে হোয়াইট হাউসের অধিপতি হতে পারেন সাবেক ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এতে তিনি কেবল ওভাল অভিসের অধিকর্তাই হবেন না, বরং মার্কিন সামরিক বাহিনীর কামান্ডারস ইন চিফ হিসেবেও নেতৃত্ব দেবেন। এসব উচ্চাকাক্সক্ষার অনেকটাই প্রতিভাত হবে সুপার টুয়েসডের প্রাক-নির্বাচনে। মঙ্গলবার দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার নির্বাচন চলছে বিভিন্ন রাজ্যজুড়ে। প্রত্যেক রাজ্য থেকে নির্বাচিত ডেলিগেটরেই আগামী জুলাইয়ে দলীয় সম্মেলনে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই করবেন। মঙ্গলবারের সুপার টুয়েসডে নির্বাচনে ডেমোক্রেটের ১২টি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন হয়েছে। আগের চারটি রাজ্যের নির্বাচনে ইতিমধ্যে হিলারির থলেয় উঠেছে ১১২ ডেলিগেটের সমর্থন। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী সমাজতান্ত্রিক চমক লাগানো ব্যক্তিত্ব ভারমন্ট সিনেটর বার্নি স্যন্ডার্স পেয়েছেন ৬৬ ডেলিগেটের সমর্থন। ডেমোক্রেট দলের মোট ৪৭৬৩ ডেলিগেটের মধ্যে মনোনয়ন পেতে প্রয়োজন ২৩৮৩ ডেলিগেটের সমর্থন। অন্যদিকে ডেমোক্রেটের ৭১২ সুপার ডেলিগেটের মধ্যে হিলারি ৪৫৩ জনের সমর্থন পেয়েছেন। বিপরীতে স্যান্ডার্সের প্রতি সমর্থন মাত্র ২০ জনের। তাই সমাজতান্ত্রিক ধুয়ো তুলে নিউ হ্যাম্পশায়ারে চমক দেখালেও শেষ পর্যন্ত হিলারির কাছে পরাজিত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। আর এই হিসাবটা স্পষ্ট হবে সুপার টুয়েসডের ভোটে।

সুপার টুয়েসডেতে ডেমোক্রাটরা আলাবামা, আরাকানসাস, জর্জিয়া, ম্যাসাচুসেটস, ওকলাহামা, টেনিসি, টেক্সাস, ভারমন্ট, ভার্জিনিয়া, কলোরাডো, মিনেসোটা ও আমেরিকান সামোয়া অঙ্গরাজ্যে ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছেন। এসব অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটের ১০১৭ জন ডেলিগেট নির্বাচিত হবেন। এই নির্বাচিত ডেলিগেটরাই আগামী জুলাইয়ে দলীয় সম্মেলনে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই করবেন। এই ১২টি অঙ্গরাজ্যের আটটিতে হিলারির জয় সুনিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্রাটিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিলারি তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের তুলনায় ১৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। হিলারি আলাবামা, জর্জিয়া ও ভার্জিনিয়ার মতো স্থানগুলোতে কালো ভোটারদের দিকে চোখ রাখছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, সুপার টুয়েসডেতে সুপার ফল করলেই হোয়াইট হাউসের দৌড়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবেন হিলারি।

এখন মনোনয়ন পাওয়ার পর জাতীয় পর্যায়ে লড়াইটা হবে কার সঙ্গে? রিপাবলিকান ধনকুবের ও বেঁফাস মন্তব্য করে বিতর্কিত ডোনাল্ড ট্রাম্প কি হিলারির সঙ্গে লড়াইয়ের যোগ্য? সবকটি জরিপে ও আগের চারটি নির্বাচনের তিনটিতে ট্রাম্প ভালো ফল করলেও তাকে ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন স্বয়ং দলীয় নেতারাই। কারণ এমন ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করলে ডেমোক্রেটের কাছে সহজেই হেরে যাবেন বলে আশংকা করছেন অনেকেই। ফ্লোরিডার সিনেটর ও রিপাবলিকান এস্টাবলিশমেন্টের ‘পছন্দের’ মার্কো রুবিও হুমকি দিয়েছেন, জুলাই মাসে দলের কনভেনশনে, যেখানে প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী চূড়ান্ত হবে, তিনি কোনো একক প্রার্থী বাছাইয়ের বিরোধিতা করবেন। রুবিও বলেছেন, ‘যে কোনো মূল্যে ট্রাম্পকে ঠেকাতে হবে, লিঙ্কন ও রিগানের দলের হয়ে এমন ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে পারেন না।’ অধিকাংশ পর্যবেক্ষক মনে করেন, ভয়াবহ কোনো কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে না গেলে ট্রাম্পকে ঠেকানো অসম্ভব হবে। গত কয়েক মাস ধরেই দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ট্রাম্পকে ঠেকানোর রণকৌশল নিয়ে দেনদরবার চালিয়েছেন। আর ট্রাম্প প্রার্থী হলে হিলারির জন্য হারানো খুব একটা কঠিন হবে না।

এদিকে, হিলারি ক্লিনটন আশাবাদী এ কারণে যে, আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসী ভোটগুলো তিনি একাই বাগাতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ। আট বছর আগে একজন তরুণ কৃষ্ণাঙ্গ বারাক ওবামার কাছে মনোনয়ন লড়াইয়ে হেরেছিলেন হিলারি। সেবার ‘ইয়েস উই ক্যান’ স্লোগান দিয়ে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। এবার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হয়ে আরেক ইতিহাস গড়তে চান হিলারি। বর্তমান পৃথিবীতে নারী একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিক দিয়ে নারী এখনও বেশ পিছিয়ে। পৃথিবীর স্বীকৃত ২০৬টি রাষ্ট্রের মাত্র ১২ রাষ্ট্রে নারী নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমেরিকার শীর্ষ ৫০০ কোম্পানির মাত্র ৪টির প্রধান নির্বাহী নারী। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হয়ে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন নজির সৃষ্টি করার ভার এখন হিলারির কাঁধে। আর তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে কয়েকটি মাস। (টেলিগ্রাফের মন্তব্য প্রতিবেদন)

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment