জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ বিশ্বনেতারা

বিশ্বনেতারা ক্ষুব্ধ
Share Button

ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে ঘোষণা করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠেছে।

বুধবার হোয়াইট হাউজের কূটনৈতিক অভ্যর্থনা কক্ষে দেয়া ভাষণে জেরুজালেমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান।ট্রাম্পের  পদক্ষেপে বিশ্বনেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টর এই ঘোষণার কঠোর সমালোচনা করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যকে আগুনের মধ্যে ঠেলে দেবে।

তিনি ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, ‘হে ট্রাম্প, আপনি কী করতে চান? এটা কী ধরনের আচরণ। যে রাজনৈতিক নেতা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তারা কোনো বিষয়কে অচল করেন না।’

ট্রাম্পের এ ঘোষণায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে না।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, তার সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে না। এটি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনার জন্য সহায়ক নয়।

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল তার মুখপাত্রের মাধ্যমে জানিয়েছেন, দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিন-ইসরাইল বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ভঙ্গ করে ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তিনি সমর্থন করেন না। ‘পৃথক দুই রাষ্ট্র’-নীতির মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান বলে তিনি মনে করেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কূটনীতিক ফিদেরিকা মোগেরিনিও ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন। তিনি এই বলে সতর্ক করেছেন যে জেরুজালেমের কী হবে, তা কেবল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে আমি এখন থেকেই এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আমার অবস্থানের কথা জানিয়ে যাব।’

সৌদি আরবের রাজকীয় আদালত এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি ‘অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

ইরান ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছে, এ সিদ্ধান্ত ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের নতুন ইন্তিফাদা বা গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা করতে পারে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিবৃতি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত মুসলমানদের নতুন ইন্তিফাদা, উগ্রবাদ, ক্ষুব্ধ ও সহিংস কর্মকাণ্ডের দিকে উসকে দেবে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের কার্যালয় থেকে ট্রাম্পের জেরুজালেম সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে তার কার্যালয় থেকে বলা হয়, ‘জেরুজালেমের ভবিষ্যৎ কোনো রাষ্ট্র বা প্রেসিডেন্টের দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে না।’

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের চাওয়া ও অধিকারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আরব বিশ্ব কখনোই ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।

জর্ডান সরকারের মুখপাত্র মোহামেদ মোমানি এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, ট্রাম্প জেরুজালেম ঘোষণার মাধ্যমে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মিছিলের ডাক দিয়েছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসী বলেছেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের অনুরোধ সত্ত্বেও আল-কুদস আল-শরীফ জেরুজালেম) এর বৈধ ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে উপেক্ষা করা হয়েছে।’

খাকান আব্বাসী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লংঘন এবং জেরুজালেমের অবস্থান সম্পর্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার পরিপন্থী।

খাকান আরো বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির গুরুতর লংঘন। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় ধরনের প্রতিবন্ধক।’

জেরুজালেমের অবস্থা সংরক্ষিত রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়ানোর জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts