তাইওয়ানে ভূমিকম্পে ১৬ তলা ভবন ধসে সাতজনের মৃত্যু

তাইওয়ানে ভূমিকম্পে ১৬ তলা ভবন ধসে তিনজনের মৃত্যু
Share Button

তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলে আজ শনিবার সকালে ভূমিকম্পে ১৬ তলা একটি ভবন ধসে পড়েছে। এতে ১০ দিনের মেয়েশিশুসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে পৌঁছেছে। ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে আছে আরও অনেকে। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আরও কয়েকটি ভবনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৬ দশমিক ৪।

এএফপির খবরে জানানো হয়, উদ্ধারকর্মীরা বলছে, ভোরের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে তাইনান শহরের আরও চারটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনগুলো কাছাকাছি অবস্থিত। তবে ১৬ তলা ভবনটি একেবারেই ধসে গেছে। নতুন চান্দ্রবর্ষ উপলক্ষে ১৬ তলা ভবনে বাসিন্দারা অনেক বেশি ছিলেন।

উদ্ধারকর্মীরা মই বেয়ে ভবনের জানালা দিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের টেনে বের করে আনছে। ক্রেন ও খননযন্ত্র দিয়ে কংক্রিটের দেয়ালগুলো ভাঙা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করতে আরও ৪০০ সেনা সেখানে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা বলছে, ভবনে ৯৬টি অ্যাপার্টমেন্ট ছিল।

তাইনান শহরে আটটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। শতাধিক লোক শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার মুখপাত্র লিন কুয়ান চেং বলেন, নিহতদের মধ্যে ১০ দিনের শিশু, একজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছে। তারা তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাঁদের দেহে প্রাণ ছিল না। বাকি দুজনের ব্যাপারে জানা যায়নি। ৩০ জনের বেশি ধ্বংসস্তূপে আটকে আছে বলে তারা আশঙ্কা করছে।

তাইওয়ানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চেন উই জেন বলেন, নতুন চান্দ্রবর্ষের ছুটির কারণে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভবনে অনেক বেশি বাসিন্দা ছিলেন। তবে বিধ্বস্ত হওয়ার সময় কতজন বাসিন্দা ছিলেন তা নিিশ্চত নয়।

রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, তাইনানের অগ্নিনির্বাপক বিভাগের তথ্য কর্মকর্তা লি পো মিন বলেন, ওই ভবনে ২৪০ জনের মতো বাসিন্দা ছিলেন। ভবনটি ১৭ তলা ছিল।

বহুতল ভবনটি ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি সাততলা ভবন থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাইনান শহরের ধসে যাওয়া ভবনগুলো থেকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। শতাধিক জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকর্মীরা।

রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, ধসে পড়া ভবনের উল্টো দিকে থাকতেন চ্যাং। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সময় টিভি দেখছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি হয় ও শব্দ পান। দরজা খুলে দেখেন, উল্টো দিকের ভবনটি ধসে পড়েছে। তিনি মই ও কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ধসে পড়া ভবনের জানালায় এক নারী কাঁদছিলেন। তিনি তাঁর স্বামী ও শিশুকে উদ্ধারের জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু গ্যাস বিস্ফোরণের ভয়ে চ্যাং ধসে যাওয়া ভবনের ভেতরে যাননি। ধসে যাওয়া ভবনের অনেকে উদ্ধারের জন্য ডাকাডাকি করছিলেন। মই ছোট হওয়ায় চ্যাং তাঁদের উদ্ধার করতে পারেননি।

বহুতল ভবনের এক বাসিন্দা স্থানীয় টিভি চ্যানেল সেট টিভিকে বলেন, তিনি দেখলেন ভবনটি ঝুঁকছে। বামে, ডানে দুলতে দুলতে ভবনটি নিচের দিকে দেবে যায়। দোতলা ও তিনতলা ধসে পড়ার পর তিনি গ্যাসের গন্ধ পান।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া ব্যুরো বলছে, ভূমিকম্পের পর তাইনানে বেশ কয়েকটি পরাঘাত হয়।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং জউ দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের বলেন, আটকে পড়াদের উদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। ভূমিকম্পের পর তাইনানে এক লাখ ৬৮ হাজার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

তাইওয়ানে এর আগেও ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ২০১৩ সালে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে চারজনের মৃত্যু হয় ও ব্যাপক ভূমিধস হয়। ১৯৯৯ সালে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে দুই হাজার ৪০০ জন প্রাণ হারায়।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts

Leave a Comment