তুরস্কে নির্বাচনের ফল: আঙ্কারা ও আনতালিয়ায় এরদোগানের একে পার্টির হার

erdogan_turky

গতকাল ৩১মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে তুরস্কের স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্বাচনটি স্থানীয় সরকারের হলেও বিশ্ববাসীর নজর ছিলো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের প্রতি। স্বভাবতই তার দল কিভাবে দেশ চালাচ্ছে তা ফুটে উঠেছে এই নির্বাচনে। এরদোগানের বিরুদ্ধবাদীদের নজর ছিলো স্থানীয় নির্বাচনে জনগন হয়তো এরদোগানের দলকে রেডকার্ড দেখাবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন একে পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট জনগনের গ্রীন সিগন্যাল পেয়েছে।

সর্বশেষ ফলাফল অনুসারে ক্ষমতাসীন জোটের প্রাপ্ত ভোট- ৫১.৭৪% এবং বিরোধী জোটের-৩৭.৬৪% ভোট। এরমধ্যে শুধু একে পার্টির ভোট ৪৪.৯৫% (যা আগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ছিল ৪৫.৫%)। দলগুলোর ভোটের অনুপাত আগের নির্বাচনের তুলনায় খুববেশী রকমফের হয় নি। কারো ১-২% কম কিংবা বেশী।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান নির্বাচন পরবর্তী বক্তব্যে একে পার্টিকে ১৫তম বারের মতো ১ম দল হিসেবে নির্বাচিত করায় জাতিকে ধন্যবাদ জানান এবং সামনের দিনগুলোতে সবাইকে নিয়ে তুরস্ককে এগিয়ে নিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তুরস্কে অধ্যয়নরত পিএইডি গবেষক হাফিজুর রহমান জানান, ক্ষমতাসীন এ.কে পার্টি জোট প্রধান শহর ইস্তাম্বুলে মেয়র পদে জয়লাভ করলেও রাজধানী আঙ্কারার মেয়র পদে পরাজিত হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ শহর আনতালিয়াও একে পার্টির হাতছাড়া হয়েছে। ফলে গত মেয়াদে অর্থাৎ নির্বাচনের আগে একে পার্টির সিটি মেয়র ছিল ১৮ জন (যেখানে সর্বমোট সিটি হলো-৩০টি) বর্তমানে যা ২ জন কমে ১৬ জনে দাড়িয়েছে। বাকী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌরসভাগুলো খুব বেশী হাতছাড়া হয় নি বরং জোট হিসেবে কিছুটা বেড়েছে।

মি. হাফিজুর রহমান আরো জানান, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফলাফলে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ১ম পার্টি হলেও রাজধানী আনকারার পরাজয়ের ব্যাপারে আমার সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণ হলো; জনগন একে পার্টিকে একটি সতর্ক সংকেত দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমার বিশ্বাস, একে পার্টি সেই সতর্কবানীটি বুঝবে এবং সামনের পথচলাকে আরো সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts