থাইল্যান্ডে দেহব্যবসা বন্ধে নারী মন্ত্রীর তোড়জোড়

থাইল্যান্ডে দেহব্যবসা বন্ধ

থাইল্যান্ডের প্রথম নারী পর্যটনমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশটির কুখ্যাত যৌন পর্যটন শিল্প বন্ধ হতে যাচ্ছে। কোবকার্ন ওয়াতানঅ্যাভরাঙ্কুল নামের ওই মন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।মঙ্গলবার ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, থাইল্যান্ডে যৌনবৃত্তি নিষিদ্ধ হলেও পর্যটনের স্বার্থে সরকার, প্রশাসন এ ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকত। রমরমা দেহব্যবসা ছিল অনেকটা ওপেন সিক্রেট। রাস্তায়, বারে প্রকাশ্যে অর্ধনগ্ন হয়ে চলে শরীরের বিজ্ঞাপন। পার্ক থেকে হোটেল, শপিংমল থেকে লেকের পার। সব জায়গাতেই দেহব্যবসার কেন্দ্র উঠেছে। থাইল্যান্ডে দেহব্যবসায়ীর সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে। এতে থাইল্যান্ডে পর্যটন ব্যবসা বেড়েছে। শুধু এসবের টানেই অনেক পর্যটক থাইল্যান্ডে ঘুরতে আসেন বলে ধারণা করা হয়।

তবে দেশটির প্রথম নারী পর্যটনমন্ত্রী কোবকার্ন বলেন, এভাবে আমরা পর্যটকদের আনব না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কোবকার্ন বলেন, ‘পর্যটকরা যৌনতার জন্য আমাদের দেশে আসেন না। তারা আসেন আমাদের সংস্কৃতির সৌন্দর্যের টানে। আমরা থাইল্যান্ডের পর্যটন শিল্পের গুণগত মানের উন্নয়ন ঘটাতে চাই। আমরা চাই যৌন বাণিজ্যের অবসান ঘটুক।’

এসময় তিনি মানব পাচার এবং অল্পবয়সী যৌনকর্মীদের নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে ১৯৬০ সাল থেকেই পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ আছে। কিন্তু এ অঞ্চলে হাজার হাজার যৌনকর্মী কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় বসেই এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ তা দেখেও না দেখার ভান করছে। গত মাসে থাইল্যান্ডজুড়ে পতিতালয়গুলোতে বেশ কয়েকটি পুলিশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ব্যাংককের একটি নামকরা ম্যাসেজ পার্লার বন্ধ করে দেয়া হয়। এসময় ১০০’রও বেশি যৌনকর্মীকে আটক করা হয়। যাদের ১৫ জনই ছিল শিশু।

২০১৪ সালে মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই কোবকার্ন এ উদ্যোগ নেন। প্রথমেই তিনি দেহ ব্যবসার আখড়া হিসেবে পরিচিত সমুদ্রতীরবর্তী পাতায়া শহরের যৌনপল্লী উৎখাতের মধ্যদিয়ে তার প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরেই পাতায়াতে ১ হাজার বার ও ম্যাসেজ পার্লারের আড়ালে বিশাল পরিসরের অবৈধ যৌনবাণিজ্য চলে আসছিল। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে প্রায় আড়াই কোটি বিদেশী পর্যটক থাইল্যান্ড সফর করেন।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts