নিউইয়র্কের ভোটের ফলাফল বদলে দেবে হিলারি-ট্রাম্পের ভাগ্য

নিউইয়র্কের ভোটের ফলাফল বদলে দেবে হিলারি-ট্রাম্পের ভাগ্য
Share Button

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভবিষ্যত অনেকটা নির্ভর করছে নিউইয়র্কের প্রাইমারি ভোটের ফলাফলে। আগামী ১৯ এপ্রিল এ রাজ্যে অনুষ্ঠেয় ভোটের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে নিতে প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্র্যাট দলের ফ্রন্ট-রানার হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তবে সর্বশেষ প্রাইমারি বা ককাস নির্বাচনে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাছে হেরেছেন এ দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। ফলে ওই প্রতিদ্বন্দ্বিদের পেছনে ফেলে বড় জয় পাওয়াই এখন এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মূল লক্ষ্য। রোববার এ দুই প্রার্থী নিউইয়র্কে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। নিউইয়র্কে রয়েছে ডেমোক্রেট দলের ২৯১ ডেলিগেট। হিলারি ক্লিনটন এ ডেলিগেটদের অধিকাংশের সমর্থন আশা করছেন। অন্যদিকে এ রাজ্যে রিপাবলিকানদের ডেলিগেট সংখ্যা ৯৫।

আগামী জুলাইয়ে দু’দলেরই জাতীয় সম্মেলন। তার আগেই ফ্রন্টরানার এ দু’প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডেলিগেট সংগ্রহের চ্যালেঞ্জে নেমেছেন। গত মঙ্গলবার উইসকনসিনে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী টেড ক্রুজের কাছে হেরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পরাজয়কে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে তার জন্য। বিলিয়নিয়ার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পেতে হলে তাকে কমপক্ষে ১২৩৭টি ডেলিগেট পেতে হবে। তা থেকে তিনি এখনও অনেকটা পিছিয়ে আছেন। তাই তার প্রচারণা এখন কেন্দ্রীভূত হয়েছে ওই সব রাজ্যে যেখানে ডেলিগেট সংখ্যা বেশি।

ওদিকে শনিবার ওয়েমিং রাজ্যে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সের কাছে সামান্য ব্যবধানে হেরেছেন হিলারি ক্লিনটন। নিউইয়র্কে ব্যাপক ব্যবধানে জিতে মনোনয়ন লড়াইয়ে কমান্ডিং ভূমিকা ফিরে পেতে চাইছেন ক্লিনটন। প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স কত রাজ্যে জিতলেন সেটা নিয়ে মাথাব্যাথা নেই হিলারির। তিনি চাইছেন ডেলিগেট সংখ্যার হিসেবের টার্গেট পূরণ করতে। তার দলীয় মনোনয়ন পেতে অর্জন করতে হবে কমপক্ষে ২৩৮৩টি ডেলিগেট। এখন পর্যন্ত তিনি অর্জন করেছেন ১৭৭৪টি ডেলিগেট। তার আর দরকার ৬০৯ টি ডেলিগেট। তা সংগ্রহের জন্য তিনিও বড় বড় রাজ্যের দিকে চোখ রাখছেন।

ডেলিগট বেশি রয়েছে নিউইয়র্ক, মেরিল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউজার্সির মতো রাজ্যগুলো। এরমধ্যে নিউইয়র্কে আগামী ১৯শে এপ্রিল তিনি চমক দেখাতে পারবেন বলে আশা করছেন। কারণ, এ রাজ্য থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করছেন। অন্যদিকে বার্নি স্যান্ডার্সের জন্ম ব্রুকলিনে। তাই নিউইয়র্ক তার নিজের রাজ্য। তিনিও এখানে বড় জয় আশা করছেন।

নিউইয়র্ক সিটি চার্চগুলোতে যোগ দেয়ার পর ক্লিনটন ছুটে গিয়েছেন বাল্টিমোরে। মেরিল্যান্ডে তার প্রথম নির্বাচনী সমাবেশকে কেন্দ্র করে এই ছুটে চলা। এ রাজ্যে তিনি বেশ জনপ্রিয়। এখানে প্রাইমারি নির্বাচন ২৬শে এপ্রিল। একই দিন পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, দেলাওয়ার ও কানেকটিকাটে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে এসব রাজ্যে ক্লিনটন বড় জয় পাবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

লেখাটি পছন্দ হলে প্লিজ Share করুন

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ :

Related posts